শীতের গন্তব্য/১ : খবর অনলাইনের বাছাই

0
166

ঝান্ডি ইকো হাট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

মোদীজির ডিমানিটাইজেশনের ঠ্যালায় পকেটের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। এই সময় বেড়ানোর গপ্প। নিশ্চয়ই ভাবছেন তাই। তেমন শীত এখনও পড়েনি। আগাম হদিশ দিয়ে আমরা রাখলাম কিছু বেড়ানোর জায়গার। এমন কিছু জায়গা, যেখানে শীত যেতে যেতে মার্চ পেরিয়ে যাবে। সুতরাং এখনই কেন, আগাম পরিকল্পনা করুন, ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে যখন খুশি বেরিয়ে পড়ুন। তত দিনে বাজার কিছুটা ধাতে আসবেই। আর যত কষ্টই হোক, মনটা তো সব সময় উড়ুউড়ু। পরিস্থিতি একটু বাগে এলেই মনে হবে কোথাও যাই। তারই সুলুকসন্ধান। আজ প্রথম কিস্তি।  

neermahal
রুদ্রসাগরে নীরমহল প্রাসাদ

ত্রিপুরা

অবস্থানগত কারণে পর্যটন মানচিত্রে উত্তরপূর্বের এই রাজ্যটি কিছুটা উপেক্ষিতই। কিন্তু এতটুকু ছোটো রাজ্যে এত বেশি পর্যটনসম্পদ পর্যটকদের অবাক করে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ত্রিপুরায় রয়েছে অভয়ারণ্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাসাদ, সরোবর, তীর্থস্থান।

ভ্রমণ শুরু করুন রাজধানী শহর আগরতলা থেকে। এখানে দিন তিনেক কাটিয়ে দেখে নিন স্থানীয় দ্রষ্টব্য, সিপাহিজলা অভয়ারণ্য (২৫ কিমি, চশমা বাঁদরের জন্য বিখ্যাত), ও কমলাসাগর (৩০ কিমি)। এ বার বেরিয়ে পড়ুন। চলুন ১৭৮ কিমি দূরের ঊনকোটি। রঘুনন্দন পাহাড়ে খোদাই করা শিল্পকর্ম বিস্ময় জাগায়। ঊনকোটি বেড়াতে গিয়ে রাত্রিবাস করতে হবে কৈলাশহর (১০ কিমি) বা ধর্মনগরে (১৭ কিমি)। ঊনকোটি থেকে চলুন ৮৭ কিলোমিটার দূরের চির বসন্তের দেশ জম্পুই পাহাড়ে। এখানে রাত কাটান ভাংমুন গ্রামে ত্রিপুরা পর্যটনের ইডেন টুরিস্ট লজে। জম্পুই পাহাড় দেখে চলে আসুন ২২০ কিমি দূরের উদয়পুরে। দিঘি ও মন্দিরের শহর উদয়পুর ১৭৭০ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরার রাজধানী ছিল। এখানে দিন দুয়েক কাটিয়ে দেখে নিন ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, যে মন্দিরের পটভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ ‘রাজর্ষি’ লিখেছিলেন সেই ভুবনেশ্বরী মন্দির, তেপানিয়া ইকো পার্ক-সহ স্থানীয় দ্রষ্টব্য। এ বার চলুন রুদ্রসাগর-নীরমহল (৪২ কিমি, রুদ্রসাগরে নীরমহল প্রাসাদ দেখলে মনে হবে আমরা রাজস্থান ছুটে যাই কেন)। এখানে এক রাত কাটিয়ে, সন্ধ্যায় নীরমহলে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখে ফিরে আসুন আগরতলা। হাতে আর কয়েকটা দিন থাকলে ঘুরে আসতে পারেন আগরতলা থেকে  ১১৩ কিমি দক্ষিণে পিলাক (প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিখ্যাত), মহামুনি প্যাগোডা (পিলাক থেকে ২৫ কিমি), কালাপানিয়া  নেচার পার্ক এবং তৃষ্ণা অভয়ারণ্য (গাউরের জন্য বিখ্যাত)।   

unakoti
ঊনকোটির বিস্ময়

কী ভাবে যাবেন

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস সপ্তাহে দু’দিন, রবিবার ও বৃহস্পতিবার, শিয়ালদহ থেকে আগরতলা যায়। সকাল ৬-৩৫ মিনিটে শিয়ালদহ ছেড়ে পরের দিন রাত ৯টায় আগরতলা পৌঁছোয়। আগরতলা থেকে সোমবার ও শুক্রবার ছাড়ে। দিল্লির সঙ্গেও এখন ট্রেনপথে যুক্ত হয়েছে আগরতলা।

তবে এখনও আগরতলা যাওয়ার সহজ উপায় বিমান। সারা দিনে কলকাতা থেকে ১৩টি উড়ান আছে আগরতলা যাওয়ার। প্রথম উড়ান ভোর ৫-৫০ মিনিটে, শেষ উড়ান বিকেল ৫-৪০ মিনিটে। আগে থেকে টিকিট কাটলে ভাড়াও অনেক কম পড়ে।

কোথায় থাকবেন

ত্রিপুরায় রাত কাটানোর সব চেয়ে ভালো ব্যবস্থা ত্রিপুরা পর্যটনের লজে। আগরতলা, কমলাসাগর, উদয়পুর, রুদ্রসাগর, কৈলাশহর, ধর্মনগর, ভাংমুন (জম্পুই পাহাড়ের জন্য), জোলাইবাড়ি (পিলাক থেকে ২ কিমি), মহামুনি এবং বিলোনিয়ায় (তৃষ্ণা অভয়ারণ্য থেকে ১৩ কিমি) রয়েছে পর্যটনের লজ। বুকিং-এর জন্য দেখুন www.tripuratourism.gov.in

আগরতলায় অনেক বেসরকারি হোটেল আছে।

সরকারি প্যাকেজে ঘোরা

ব্যক্তিগত উদ্যোগে না ঘুরে ত্রিপুরা পর্যটনের প্যাকেজেও ঘুরে নিতে পারেন ছোট্টো এই রাজ্যটি। দেখুন www.tripuratourism.gov.in

kazi
কাজিরঙায় হাতি সাফারি

গুয়াহাটি-কাজিরঙা

সপ্তাহ খানেকের ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুন। দিন চারেক রাখুন গুয়াহাটির জন্য। সুদূর বিস্তৃত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এই শহর উত্তরপূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। শীতে বড়োই মনোরম গুয়াহাটি। রেলস্টেশন থেকে ৮ কিমি দূরে কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিয়ে ভ্রমণ শুরু করুন। যদি বলা হয় গুয়াহাটির খ্যাতি কামাখ্যা মন্দিরের জন্য, তা হলে বোধহয় অত্যুক্তি হয় না। নীলাচল পাহাড়ের মাথায় ভুবনেশ্বরী মন্দির দেখে চলুন উমানন্দ মন্দির। কামাখ্যার ভৈরব হলেন উমানন্দ। ব্রহ্মপুত্রের মাঝে পিকক আইল্যান্ডে উমানন্দ মন্দির। কাছারি ঘাট বা ফ্যান্সিবাজার ফেরিঘাট থেকে নৌকায় চেপে উত্তাল ব্রহ্মপুত্রের উপর দিয়ে উমানন্দ যাওয়া এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

শহর থেকে ১২ কিমি দূরে বশিষ্ঠ আশ্রমের প্রাকৃতিক শোভা মুগ্ধ করে। সে দিন দেখে নিন চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, নেহরু পার্ক, শ্রীমন্ত শঙ্করদেব কলাক্ষেত্র। তৃতীয় দিন সকালে চলুন ৪০ কিমি দূরে অসমের খাজুরাহো মদন কামদেব মন্দিরগুচ্ছ। অনুচ্চ এক টিলার উপরে অহোম রাজাদের আমলে নির্মিত মন্দির স্থাপত্যের অসাধারণ নিদর্শন। গুয়াহাটি ফিরে দুপুরে সরাইঘাট ব্রিজের উপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে চলুন হাজো – সর্ব ধর্মের মিলনস্থল।

চতুর্থ দিন গুয়াহাটি থেকে ৫৩ কিমি দূরের পবিতোরা অভয়ারণ্য ঘুরে আসুন। এই এক দিনের বনভ্রমণ চোখ ও মনকে তৃপ্ত করবেই। দিনে দু’বার হাতি সাফারি হয় – সকাল ও দুপুরে। গন্ডার, বুনো মোষ, হগ ডিয়ার, শিয়াল, বনবিড়াল, একাধিক প্রজাতির কচ্ছপ, সিভেট, খরগোশ – কিছু না কিছু আপনাকে দর্শন দেবেই।

গুয়াহাটি শহর থেকে ২১৭ কিমি দূরে কাজিরঙা ন্যাশনাল পার্ক। কাজিরঙায় পৌঁছেই পরের দিনের খুব ভোরের হাতি সাফারির জন্য নাম নথিভুক্ত করে নিন। আপনি যেখানে আছেন সেখান থেকে এলিফ্যান্ট রাইড পয়েন্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি বলে রাখুন। হাতি সাফারি সেরে ফিরে এসে জিপ সাফারিতে বেরিয়ে পড়ুন। কাছেই কোহরা নদী। বিকেলের দিকে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় নদীর পারে। দিন দুয়েক কাটান কাজিরঙায়, ভালো ভাবে উপভোগ করুন।

kama
কামাখ্যা মন্দির

কী ভাবে যাবেন

ভারতের প্রায় সমস্ত জায়গার সঙ্গে বিমান ও ট্রেনে গুয়াহাটির যোগাযোগ রয়েছে। কলকাতা থেকে ট্রেন সরাইঘাট এক্সপ্রেস ও কামরূপ এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস শিয়ালদহ থেকে এবং গরিব রথ কলকাতা স্টেশন থেকে। গুয়াহাটিতে ঘোরাঘুরি করার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিন।

২১৭ কিমি দূরের কাজিরঙা যাওয়ার সব চেয়ে ভালো উপায় হল বাস। দিনে ও রাতে গুয়াহাটি থেকে বেশ কয়েকটা বাস ছাড়ে কাজিরঙা যাওয়ার। তা ছাড়া গাড়ি ভাড়া করে তো যাওয়াই যায়।

কোথায় থাকবেন

সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুয়াহাটিতে থাকার জন্য রয়েছে অসম পর্যটনের প্রশান্তি টুরিস্ট লজ। কাজিরঙার কোহরায় রয়েছে অরণ্য টুরিস্ট লজ। বুকিংয়ের জন্য অসম পর্যটনে যোগাযোগ ০৩৬১-২৫৪৭১০২/২৫৪২৭৪৮/২৫৪৪৪৭৫। কলকাতা অফিসে যোগাযোগ ০৩৩-২২২৯৫০৯৪।

কাজিরঙায় যোগাযোগ ০৩৭৭৬-২৬২৪২৯।

কাজিরঙায় অসম পর্যটন দফতরের অধীনে রয়েছে বনশ্রী লজ, বনানী লজ, কুঞ্জবন ডরমিটরি লজ। যোগাযোগ ০৩৭৭৬-২৬২৪২৩।

এ ছাড়া গুয়াহাটিতে সারা শহর জুড়ে প্রচুর বেসরকারি হোটেল, লজ রয়েছে। তাই আগাম সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

কাজিরঙায়ও থাকার প্রচুর বেসরকারি ব্যবস্থা আছে।

umiyam-lake
উমিয়াম লেক

শিলং-চেরাপুঞ্জি-মাওলিনং

মেঘের রাজ্য মেঘালয়, তার রাজধানী শিলং। বছরভর যাওয়া চলে মেঘালয়ে। তবে এখানে শীতের আমেজ যেন অন্য রকম।

শিলং যাওয়ার পথেই পড়বে উমিয়াম লেক বা বড়াপানি। আপনার ভ্রমণের সময় যদি পূর্ণিমা থাকে তা হলে পাহাড়ে ঘেরা এই লেকের ধারে একটা রাত কাটান। চিরকাল সঞ্চয়ে রাখার মতো একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।  উমিয়াম থেকে শিলং ১৬ কিমি।

শিলং বললেই তো বাঙালির মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’র কথা, অমিত-লাবণ্যর কথা। এক সময় বাঙালির বেশ রমরমা ছিল এই শিলং পাহাড়ে। আজ সেই রমরমা নেই বটে, তবে বাঙালিয়ানা রয়েছে। হাটেবাজারে বাংলার চল রীতিমতো, আসলে বাংলাদেশটাও যে কাছে। রবীন্দ্রনাথের বসতবাটি ‘মালঞ্চ’য় আজ মেঘালয় সরকারের ক্র্যাফট সেন্টার, তবে একটা স্মৃতিফলক রয়েছে। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের বাড়ি আজ সার্কিট হাউজ। তবে ক্ষতি কী, একবার ঘুরেই আসুন না বাড়িগুলো। অতীত রোমন্থন তো করাবে। দেখুন ওয়ার্ডস লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ডন বস্কো ক্যাথিড্রাল, ক্রিনোলাইন ফলস্‌, বিডন ও বিশপ ফলস্‌ (শহর থেকে ৫ কিমি), এলিফ্যান্ট ফলস্‌ (শহর থেকে ১২ কিমি), শিলং পিক (৬৫০০ ফুট, শহর থেকে ১০ কিমি)।

মিষ্টি রোদে পায়ে হেঁটে ঘুরুন শিলং শহর। অন্য পাহাড়ি শহরের তুলনায় চড়াই-উতরাই কম। শহরও এমন কিছু বড়ো নয়। তাই হেঁটে ঘোরায় একটা অন্য আনন্দ পাওয়া যায়। দূরের দ্রষ্টব্যগুলো যাওয়ার জন্য বাস, ট্যাক্সি তো রয়েইছে। এক দিন ঘুরে আসুন ২২ কিমি দূরে খাসিদের পবিত্র বন মফলাং।

বৃষ্টির সময় না হলেও এক দিন চলুন ৫৬ কিমি দূরের চেরাপুঞ্জি। যাওয়ার পথে খাসি পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখুন, সোহরাবাজার থেকে কিনুন  কমলালেবুর মধু। একটা রাত কাটান এখানে। চেরাপুঞ্জিতে অজস্র দ্রষ্টব্য। আর হাঁটুর জোর থাকলে ২৫০০ সিঁড়ি নেমে ডবল ডেকার রুট ব্রিজে চড়ুন।

maw
এই সেই মাওলিনং

তবে মেঘালয় বেড়াতে গিয়ে যেটা একদমই মিস করবেন না সেটা হল ‘এশিয়ার সব চেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের’ শিরোপা পাওয়া ৯০ কিমি দূরের মাওলিনং। এখানে ভ্রমণ এক বিরল অভিজ্ঞতা হয়ে ত্থাকবে। এখানকার লিভিং রুট ব্রিজ দিয়ে অবলীলায় নদী পারাপার করুন। একটা রাত কাটিয়ে ধীরেসুস্থে সব দেখুন, গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলাপ করুন।

কী ভাবে যাবেন

গুয়াহাটি থেকে বাসে বা গাড়িতে শিলং। শিলং শহরে ঘোরাঘুরির জন্য বাস বা ট্যাক্সি পাবেন। চেরাপুঞ্জি, মাওলিনং যাওয়ার জন্য শিলং থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো।

কোথায় থাকবেন

শিলং শহর জুড়ে হোটেলের ছড়াছড়ি। মেঘালয় পর্যটনের হোটেল পাইনউড (০৩৬৪-২২২৩১১৬), হোটেল অর্কিড (০৩৬৪-২২২৪৯৩৩)। উমিয়াম লেকের ধারে রয়েছে মেঘালয় পর্যটনের অর্কিড লেক রিসর্ট (০৩৬৪-২৫৭০২৫৮)। চেরাপুঞ্জিতে থাকার ভালো জায়গা চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসর্ট (০৯৪৩৬১১৫৯২৫) আর মাওলিনং-এ থাকুন মাওলিনং গেস্টহাউজ (০৯৮৩০২০৩৯৭৩), ইলা জঙ্গ গেস্টহাউজ (০৯৬১৫০৪৩০২৭) বা স্কাই ভিউ গেস্টহাউজে (০৮৭৩১০৯৫৮০৭, ০৮৫৭৫৬১৫৮৭৭)।

jhandi
ঝান্ডি ইকো হাট

ঝান্ডিদাড়া-রিকিসুম-রামধুরা

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের তিন নতুন ডেসটিনেশন। কালিম্পং-লাভা-লোলেগাঁও তো অনেক হল, একবার এই তিন জায়গার কোনো একটায় থাকুন। মন আপনার ভালো হবেই। এক দিকে ডুয়ার্সের সমতল, অন্য দিকে সুবিশাল কাঞ্চনজঙ্ঘা। সমুদ্রতল থেকে ৬,২০৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ঝান্ডি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আদতে নাম ঝান্ডিদারা, স্থানীয়রা আদর করে বলেন ঝান্ডি। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত পর্যটন মানচিত্রে ঝান্ডিদারা ছিল অপরিচিত। সেই ঝান্ডিকে পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আসেন রাজেন প্রধান। গড়ে তোলেন ঝান্ডি ইকো হাট। ইকো হাটের ঘর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার মতো। দুটো দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম করার মতো জায়গা এই ঝান্ডি। ঝান্ডি থেকেই আপনি ঘুরে নিতে পারেন লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ, কালিম্পং।

ramdhura
রামধুরা থেকে তিস্তা

যেতে পারেন রামধুরাও। লাভা থেকে কালিম্পং-এর রাস্তায় আলগারা পেরিয়ে কিছুটা গেলেই ডান দিকে পথ চলে গিয়েছে রামধুরা। কাঞ্চনজঙ্ঘা আর তিস্তার এক অপরূপ মেলবন্ধন এই রামধুরা। চাইলে এখানকার সিংদাম রিট্রিটে একদিন থেকেও যেতে পারেন।

riki-2
রিকিসুমের নিসর্গ

কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের আরও একটি অপরূপ জায়গা রিকিসুম। আলগারা থেকে যে রাস্তা পেডং হয়ে সিকিমে চলে যাচ্ছে সেই রাস্তায় ছ’ কিমি গেলেই পড়বে রিকিসুম। সমুদ্রতল থেকে রিকিসুমের উচ্চতা ৬,৩০০ ফুট। এখানে রয়েছে ১৯০২ সালে ব্রিটিশদের তৈরি একটি বাংলা, যেটি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে রূপান্তরিত। রিকিসুম থেকে আট কিমি ট্রেক পথে পাড়ি দিতে পারেন রিশপও।   

কী ভাবে যাবেন

শিয়ালদহ থেকে রাত সাড়ে ৮টার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে পরের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় নামুন নিউ মাল জংশনে। এখানে থেকে ঝান্ডির দূরত্ব ৩২ কিমি। মালবাজার থেকে ডামডিম হয়ে লাভার রাস্তা ধুরুন। গরুবাথান পেরিয়েই বাঁ দিকে একটা রাস্তা চেল নদী পেরিয়ে উঠে যাচ্ছে পাহাড়ে। ওই পথেই ঝান্ডি। গরুবাথান থেকে সোজা রাস্তায় লাভা হয়ে চলুন কালিম্পং-এর দিকে। আলগারা পেরিয়ে কিছুটা গেলেই একটা রাস্তা ডানদিকে চলে যাচ্ছে রামধুরা। আলগারা থেকে যে রাস্তা পেডং যাচ্ছে সেই রাস্তাতেই মাত্র ৬ কিমি গেলে রিকিসুম। ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে ট্রেনে চলে আসতে পারেন নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকেও গাড়িতে চলে যেতে পারেন ঝান্ডি।

কোথায় থাকবেন

ঝান্ডিতে থাকার জন্য রয়েছে ঝান্ডি ইকো হাট। এখানকার আতিথেয়তায় আপনি মুগ্ধ হবেনই। যোগাযোগ: রাজেন প্রধান- ৯৪৩৪১১৬৩২৫। ওয়েবসাইট- www.jhandiecohut.com। রামধুরায় থাকার জন্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের তত্ত্বাবধানের বেসরকারি রিসোর্ট সিংদাম রিট্রিট। অনলাইনে বুক করতে পারেন: www.wbfdc.net। রিকিসুমে থাকার জন্য রয়েছে দ্য সানা হোমস্টে। ওয়েবসাইট- www.sanahilltop.com/rikkisum। আছে স্বর্ণশিখর হোমস্টে। যোগাযোগ- ৯৮৩২৬৬৭৫৭০।

betla
শীতের ভোরে বেতলার বনপথে 

রাঁচি-নেতারহাট-বেতলা

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি বরাবরই বাঙালির প্রিয় শহর। ছোটোনাগপুর মালভূমির কেন্দ্রস্থলে হাজার দুয়েক ফুট উচুতে অবস্থিত এই শহর শীতে অত্যন্ত মনোরম। শহরের পশ্চিমে রাঁচি পাহাড়, উত্তরে মোরাবাদি তথা টেগোর হিল। তারই মাঝে ১৮৪২-এ তৈরি রাঁচি লেক। লেকের ধার থেকে সূর্যাস্ত মুগ্ধ করে। টেগোর হিলে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ভবন। পাহারতলিতে শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। শহর থেকে অল্প দূরে কাঁকে ড্যাম ও রক গার্ডেন। শহর ছাড়াতেই পাহাড়, ঝর্না আর জঙ্গল, সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি। টাটাগামী সড়কে ৩৫ কিমি দূরে দশম ফলস্‌, উত্তর-পূর্বে ৪৩ কিমি দূরে হুড্রু ফলস্‌, এ পথেই সীতা ফলস্‌, আর হুড্রু থেকে ৩৩ ও রাঁচি শহর থেকে ৩৮ কিমি দূরে জোনা ফলস্‌ তথা গৌতমধারা জলপ্রপাত রাঁচি বেড়ানোর আকর্ষণ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আরও ভালো হয় যদি চক্রধরপুরের পথে ৭৭ কিমি দূরের টেবোর ঘাটে হেসাডি গিয়ে সেখান থেকে নির্জন পথে কিছুটা হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় হিরনি ফলস্‌। উচ্চতায় সর্বোত্তম দুধ-সাদা হিরনি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সঙ্গে গাড়ি থাকলে হাঁটার প্রয়োজন হয় না।

netarhat
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা — নেতারহাট

রাঁচিতে দিন তিনেক কাটিয়ে চলুন নেতারহাট। ৪০০০ ফুট উচ্চতার নেতারহাট ‘কুইন অব ছোটোনাগপুর। শাল-সেগুন-মহুয়া-পাইন-ইউক্যালিপটাসে ছাওয়া নেতারহাটকে আদর করে বলা হত নেচারহাট। টুরিস্ট বাংলো প্রভাত বিহার বা পলামু বাংলো থেকে সূর্যোদয়, আর ৮ কিমি দূরের ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্ত ভলার নয়। জিপে বা গাড়িতে করে ঘুরে নিন ৬ কিমি দূরের আপার ঘাঘরি জলপ্রপাত, আরও ৩ কিমি দূরে লোয়ার ঘাঘ্র, ৩৫ কিমি দূরের সিধনি জলপ্রপাত আর ৬১ কিমি দূরের লোধ জলপ্রপাত।

বেতলা আসার পথে মহুয়াডাঁরে একটা দিন কাটিয়েও দেখে নিতে পারেন লোধ, সিধনি।

এ বার চলুন বেতলা জাতীয় উদ্যান। জঙ্গল সাফারি করুন হাতির পিঠে চেপে বা গাড়িতে। জঙ্গলের মধ্যেই দেখে নিন মেদিনী রায়ের প্রাচীন দুর্গ, কমলডাহ লেক আর আউরাঙ্গা নদী।      

কী ভাবে যাবেন

রাঁচির ভারতের প্রায় সব শহরেরই ট্রেন যোগাযোগ রয়েছে। হাওড়া থেকে রাতের হাতিয়া এক্সপ্রেস, সক্কালে রাঁচি শতাব্দী (রবিবার ছাড়া), দুপুরে রাঁচি ইন্টারসিটি (পূর্ব রেলে, রবি, সোম, মঙ্গল) এবং বিকেল ৩টেয় রাঁচি ইন্টারসিটি (দক্ষিণ পূর্ব রেল, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি) চেপে পৌঁছে যাওয়া যায় রাঁচি।

কলকাতা থেকে বাসেও রাঁচি যেতে পারেন।

রাঁচি স্টেশনের কাছ থেকে নেতারহাট যাওয়ার সরকারি বাস ছাড়ছে, বেসরকারি বাস ছাড়ছে রাতু রোড থেকে।  গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন ১৫৫ কিমি দূরের নেতারহাটে।

নেতারহাট থেকে বাসে বেতলা যেতে হলে ৪৩ কিমি দূরের মহুয়াডাঁর এসে সেখান থেকে বাস বদল ৮০ কিমি দূরের বেতলা চলুন। গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন নেতারহাট থেকে বেতলা।

বেতলা থেকে বাসে ডালটনগঞ্জ এসে সেখান থেকে ঘরে ফেরার ট্রেন ধরুন।

কোথায় থাকবেন

রাঁচিতে থাকার হোটেলের অভাব নেই। মেন রোডে ঝাড়খণ্ড পর্যটনের হোটেল বিরসা বিহার, যোগাযোগ ০৬৫১-২৩৩১৮২৮। নেতারহাটে রয়েছে ঝাড়খণ্ড পর্যটনের হোটেল প্রভাত বিহার। বেতলায় ঝাড়খণ্ড পর্যটনের হোটেল বন বিহার।

ঝাড়খণ্ড পর্যটনের কলকাতা অফিস: উষা কিরণ বিল্ডিং, অষ্টম তল, ফ্ল্যাট ৮এ, ১২এ ক্যামাক স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০১৭। ফোন ০৩৩-২২৮২০৬০১, ৯৮৩৬৯৭৩৮৮৯।

dariing
দারিংবাড়ি — ডিয়ার ইকো হোম

দারিংবাড়ি-তারাতারিণী     

কেউ বলেন ওড়িশার কাশ্মীর, কেউ বলেন ওড়িশার দার্জিলিং। ওড়িশার এই পাহাড়ি শহর কাশ্মীর নয়, দার্জিলিঙও নয়, সে তার নিজ গুণেই আকর্ষণ করে পর্যটকদের। ভুবনেশ্বর বা ব্রহ্মপুর (বেরহামপুর) থেকে সড়কপথ সুরাদা পেরিয়ে ডান দিকে রুশিকুল্যা নদীকে রেখে এগিয়ে যায়, তার পর পাহাড়ে উঠতে থাকে। শেষ ২০ কিমি ঘাটপথ। এক দিকে পাহাড়, অন্য দিকে খাদ। তার পর পৌঁছে যায় তিন হাজার ফুটের মাথায়, বিস্তীর্ণ এক উপত্যকা শহর। পাহাড়গুলো একটু দূরে সরে যায়, যেন দূর থেকেই আগলে রাখে দারিংবাড়িকে।  হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় মিঠে রোদে গা এলিয়ে মোবাইল সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিব্যি কয়েকটা দিন কাটিয়ে দেওয়া যায় কন্ধমাল জেলার এই আদিবাসী অধ্যুষিত শহরে। শীতে কখনও কখনও তাপমাত্রা চলে যায় শূন্য ডিগ্রির নীচে। সারা রাত ধরে পড়তে থাকা শিশির ভোরে বরফের কুচি হয়ে জমে থাকে ঘাসের ডগায়, পাতার উপরে। পাইন জঙ্গল, পাহাড়ি নদী, অসংখ্য পাহাড়ি ঝর্না, এলাচ-কফির বাগান, সানসেট পয়েন্ট, হিলভিউ পার্ক – কাছে দূরে ঘোরার অনেক জায়গা।

taratari
ডাকল আমায় রুষিকুল্যা

ব্রহ্মপুর ফেরার পথে দু-একটা দিন কাটিয়ে যান রুশিকুল্যার ধারে তারাতারিণীতে (ব্রহ্মপুর থেকে ৩০ কিমি, দারিংবাড়ি থেকে ১০০ কিমি)। রোপওয়ে চেপে উঠুন তারাতারিণী পাহাড়ে, দেখে নিন তারাতারিণী মন্দির। ওপর থেকে নীচের উপত্যকার দৃশ্য ভোলার নয়। ঘুরে আসুন গোপালপুর অন সি, তপ্তপানি অথবা ওড়িশার ‘এক টুকরো তিব্বত’ চন্দ্রগিরি।     

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া বা অন্য যে কোনো জায়গা থেকে ট্রেনে ভুবনেশ্বর বা ব্রহ্মপুর। ভুবনেশ্বর থেকে গাড়িতে প্রায় ২৫০ কিমি, ঘণ্টা পাঁচেকের পথ। ব্রহ্মপুর স্টেশন থেকে বাস পাওয়া যায়। গাড়িও মেলে। দূরত্ব ১২০ কিমি।

কোথায় থাকবেন

দারিংবাড়িতে ইদানীং দু-তিনটে থাকার জায়গা হয়েছে। তবে সব চেয়ে বিশ্বস্ত জায়গা পাহাড়ের মাথায় ডিয়ার ইকো হোম। যোগাযোগ অনিল সোয়েন ০৯৪৩৮৪২২৪৫২, ০৯৮৬১৫৯৬২৬১ ও ০৯৩৩৮৮৮০৮৯৪। ইমেল deersindia@yahoo.com।

তারাতারিণীতে থাকার জন্য রয়েছে নিরুপমা গ্রুপ অফ হোটেলস-এর নিরুপমা তারাতারিনি। যোগাযোগ ০৯৪৩৭৫৮৫৯১৭।

rajgir
রোপওয়ে পথে রাজগিরের পাহাড়চুড়োয়

রাজগির-নালন্দা-গয়া

চারিদিকে পাহাড় আর সবুজ জঙ্গলে ঘেরা অতীতের রাজগৃহ, আজকের রাজগির। তার প্রাকৃতিক দৃশ্য যেমন মুগ্ধ করে, তেমনই এখানকার মন্দির-মনাস্ট্রি নিয়ে যায় সুদূর অতীতে, বিম্বিসার-অজাতশত্রুর আমলে কিংবা আরও পিছনে মহাভারতের জরাসন্ধের সময়ে। এই রাজগিরেই দীর্ঘদিন থেকে মগধের রাজা বিম্বিসারকে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা দিয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ। এখানেই প্রথম বৌদ্ধ ধর্মমহাসভা বসেছিল। এই রাজগিরেই গৌতম বুদ্ধ তাঁর বাণী প্রথম লিপিবদ্ধ করেন। বৌদ্ধ ও হিন্দুদের উল্লেখযোগ্য তীর্থস্থল এই রাজগির। এখানকার বহু দ্রষ্টব্য বস্তু অতীত ইতিহাসের সাক্ষ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অতিরিক্ত আকর্ষণ রোপওয়ে চড়ে পাহাড়ের মাথায় শান্তিস্তূপ ও জাপানি মনাস্ট্রি দেখতে যাওয়া।

পৌষ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ জানুয়ারির মাঝে রাজগিরে বসে মকর সংক্রান্তি মেলা।  

nalanda
ইতিহাসের সাক্ষী নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়

রাজগির থেকেই চলুন নালন্দা (১০ কিমি, দেড় হাজার বছর আগেকার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ), পাওয়াপুরী (৩৫ কিমি, জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের মহানির্বাণ স্থল), কুন্দলপুর (১৮ কিমি, দিগম্বর জৈনদের মতে মহাবীরের জন্মস্থান), স্বরাজপুর-বড়াগাঁও (১৮ কিমি, সরোবর ও সূর্য মন্দির)। রাজগির আসা ও রাজগির থেকে ফেরার পথে দু’দিন কাটিয়ে দেখে নিন গয়া ও বুদ্ধগয়া।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, রাঁচি, লখনউ থেকে বিমানে পটনা। ট্রেনে হাওড়া/দিল্লি/মুম্বই থেকে পটনা/গয়া/বখতিয়ারপুর। পটনা থেকে ১০১ কিমি রাজগির, বাসে বা গাড়িতে। গয়া থেকে রাজগির ৬৩ কিমি, বাস বা গাড়ি মেলে। বখতিয়ারপুর থেকে রাজগির ৫৫ কিমি, গাড়ি মেলে। তবে ট্রেনে গেলে গয়াই নামা ভালো। কলকাতা-রাজগির নিয়মিত বাস সার্ভিস আছে, বাবুঘাট থেকে ছাড়ে, দূরত্ব ৫০০ কিমি। গাড়িতে ১০ ঘণ্টার পথ, বর্ধমান-দুর্গাপুর-আসানসোল- ধানবাদ-বাগোদার-ঝুমরি তিলাইয়া হয়ে।

কোথায় থাকবেন

রাজগিরে বিহার পর্যটনের তিনটি টুরিস্ট বাংলো আছে – অজাতশত্রু বিহার (ফোন ০৬১১২-২৫৫০২৭, শুধুমাত্র ডরমিটরি), গৌতম বিহার (ফোন ০৬১১২-২৫৫২৭৩, এসি রুম, ডিলাক্স রুম, ডরমিটরি) এবং তথাগত বিহার (ফোন ০৬১১২-২৫৫১৭৬, এসি রুম, ডিলাক্স রুম, ইকোনমি রুম)। এ ছাড়া নানা মানের, নানা দামের বহু বেসরকারি হোটেল, লজ আছে।

গয়া বা বুদ্ধগয়ায় থাকার জন্য অনেক সরকারি, বেসরকারি অনেক হোটেল রয়েছে। আগাম সংরক্ষণের দরকার হয় না। এ ছাড়াও আছে স্বরাজ্যপুরী রোডে ভারত সেবাশ্রম সংঘের যাত্রীনিবাস। যোগাযোগ সংঘের কলকাতা অফিসে ০৩৩-২৪৪০৫১৭৮।

ছবি: সৌজন্য ফেসবুক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here