মানুষের শরীরে শুকরের অঙ্গ! হতেও পারে বলছে গবেষণা

0
101

ওয়েবডেস্ক : ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ৫০০ জন মারা যান, কেবল অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে না পেরে। বর্তমানে ৬৫০০ জন এখনও প্রয়োজনীয় অঙ্গের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই অভাব পূরণ করতে এ বার আরও একটা নতুন পথের সন্ধান দিলেন এক দল বিজ্ঞানী।

এত দিন প্রায় সম প্রজাতি ছাড়া অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যেত না। কাজে লাগত না অন্য কোনো প্রাণীর অঙ্গই। কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি সংস্থা ই-জেনেসিস-এর বিজ্ঞানীরা শুকরের অঙ্গ যাতে মানুষের শরীরে ব্যবহার করা যায় সেই উপায় বাতলালেন।

শুনেই কেমন আতঙ্ক হয়। শুকর! শুকর থেকে ভয়াবহ সব মারণরোগের কথা প্রথমেই মাথায় আসে। কিন্তু না, এ ক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কারণটাই তাঁরা সরিয়ে ফেলেছেন শুকরের বংশগতির একক বা জিন থেকে। যে বিশেষ ভাইরাসের জন্য শুকর সংক্রামক রোগ ছড়ায় সেই বিশেষ ভাইরাসবিহীন শুকরের ভ্রূণ তৈরি করেছেন। তা মা শুকরের গর্ভে প্রতিস্থাপন করেছেন। এমন ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রথম।

এই বিশেষ গবেষণাকারী দল একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে শুকরের ডিএনএ থেকে সিআরআইএসপিআর-ক্যাস নাইন ভাইরাস সরিয়ে ফেলা যায়। এই বিশেষ ভাইরাসটাই হল যত নষ্টের গোড়া। তাঁরা বলেন, এই ভাইরাস মুক্ত শুকরই মানুষকে অঙ্গদানের কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে জানিয়ে রাখা ভালো তা এখনও সর্বসম্মতিক্রমে ধার্য হয়নি। কাজ চলছে।

তাঁরা প্রথমে শুকরের কোষ সংগ্রহ করেন। তার পর কোষটির ডিএনএ থেকে ওই ভাইরাস সরিয়ে ফেলেন যন্ত্রটির সাহায্যে। এক কথায় এটা সম্পাদিত ডিএনএ। এর পর এই কোষের মতো আরও কোষ তৈরি করেন। তার থেকে অবশেষে একটা ভ্রূণ গড়ে তোলেন। সেই ভ্রূণ চিনে শুকরের গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। সেই ভ্রূণ থেকে ৩৭টা শিশু শুকরের জন্ম হয়। আর মজার কথা ওই ৩৭টা শুকরছানার মধ্যে ওই সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এক্কেবারে নেই। তবে সব ক’টি বেঁচে নেই। ওদের মধ্যে ১৫ জন বেঁচে আছে।

গবেষণার প্রধান জর্জ চার্চ বলেন, সব ক’টি বেঁচে নেই ঠিকই। কিন্তু যাতে এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত করা যায় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, হতেই পারে আগামী দু’ বছরের মধ্যেই এই ব্যবস্থা চলে আসবে।

উল্লেখ্য, শুকর আর মানুষের মধ্যে চিকিৎসাজগতে নতুন কিছু করার প্রচেষ্টা এই বছরে এর আগেও হয়েছে। জানুয়ারি মাসেই শুকরের সঙ্গে মানুষের কোষ মিশিয়ে ভ্রূণ প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে সেই গবেষণা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। একটা শুকরের শরীরের ভেতরে মানুষের অঙ্গ এখনও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এই জাতীয় পরীক্ষা অন্য প্রাণীদের ওপরও করা হয়েছে। তাতে সাফল্যও এসেছে।

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here