ধর্ষকের ১০ বছর জেল ও তিন লক্ষ টাকা জরিমানা, টাকা পাবে নাবালক সন্তান

0
1163

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ধর্ষণে দোষী যুবকের জরিমানা তিন লক্ষ টাকা। সেই টাকা পাবে ধর্ষিতার নাবালক ছেলে। শনিবার জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত দায়রা বিচারকের ফ্যাস্ট ট্র‍্যাক সেকেন্ড কোর্ট এই রায় দিয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের ১০ বছরের জেল এবং জরিমানার তিন লক্ষ টাকা না দিলে আরও তিন বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক রাণা দাম।

জলপাইগুড়ির ধুপগুড়ির ব্লকের  খুট্টিমারির যুবক বিমল রায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল স্থানীয় এক কিশোরীর। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার জোর করে সহবাস করে বিমল, যার জেরে গর্ভবতী হয়ে পড়ে দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রী। কিন্তু তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে বিমল। অভিযোগ, ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিমল ও তার পরিবারের লোকেরা ওই কিশোরীকে জোর করে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের হাত থেকে ফাঁক বুঝে পালায় সে। এই ঘটনার পর ২০০৫ সালের ১৪ জুন আদালতের নির্দেশে ধূপগুড়ি থানায় বিমলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়। তাকে সাহায্য করার জন্য আরও সাত জনের নাম আসে অভিযোগে। গ্রেফতার হয় বিমল। পরে জামিনে সাময়িক মুক্তি পায়।

এর মধ্যেই পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। এর পর তার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায় এবং ঘটনাচক্রে পরে শ্বশুরবাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপণ

যদিও লড়াই থামাননি ওই নির্যাতিতার বাবা-মা। টানা বারো বছর লড়াই চালিয়ে গিয়েছে দিনমজুর পরিবারটি। জামিন পেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের একাধিকবার হুমকি দিয়েছে অভিযুক্ত বিমল ও তার পরিবার। শনিবার বিচারের রায় শোনার পর বাড়ির দাওয়ায় বসে অভিযোগ জানালেন কিশোরীর মা। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল বছর এগারোর সেই কিশোর, যাকে জন্ম দিলেও নিজের কাছে রাখতে পারেনি কুমারী মা। কারণ তার শ্বশুরবাড়ি এ ঘটনা মেনে নেয়নি। আর তার জন্মদাতা পিতা তো জন্মের আগেই তাকে অস্বীকার করেছিল, যার জন্য ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। যাতে প্রমাণ হয়ে যায়, সে বিমলেরই সন্তান। সেই ডিএনএ রিপোর্ট এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। আর ছিল ৮ জন সাক্ষী। এর ভিত্তিতেই শনিবার বিচারক তাঁর এই সংবেদনশীল রায় দেন। সরকার পক্ষের অতিরিক্ত আইনজীবী প্রতীক ঝাঁ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিচারক তাঁর রায়ে বলেছেন, দোষীকে সাজা ভোগ করার পাশাপাশি তিন লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সেই টাকা পাবে নির্যাতিতার ওই নাবালক ছেলে তার ভবিষ্যতের ভরণপোষণের জন্য। জরিমানার টাকা না দিলে অতিরিক্ত আরও তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

রায় জানার পর চোখের জল লুকোতে পারলেন না নির্যাতিতার মা। মা-হারা নাতিকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আদালতকে প্রণাম। সবাই যেন এ ভাবে সুবিচার পায়, বললেন পড়শিরা, যাঁরা এই দীর্ঘ লড়াইয়ের সাক্ষী। তবে তথ্যপ্রমাণের অভাবে এই মামলায় বাকি সাত অভিযুক্ত মুক্তি পেয়েছে।

জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট সমাজসেবী সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, এই নজীরবিহীন রায়ে এক দিকে এই ধরনের অপরাধ যেমন কমবে, তেমনি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা অটুট থাকবে সাধারণ মানুষের।

কপালে হাত রেখে শুধু একটা আক্ষেপ জানালেন নির্যাতিতার মা, বেঁচে থাকলে রায়টা শুনে মেয়েটা হয়তো শান্তি পেত!

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here