গরুমারায় দু’টি গন্ডারের মৃতদেহ উদ্ধার, খড়গ উধাও, ধৃত ৫

0
380

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ‘কোর’ এরিয়া থেকে মিলল দু’টি গন্ডারের মৃতদেহ। দু’টিরই খড়গ উধাও। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় চোরাশিকারিদের হাত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে টহল দেওয়ার সময় গরুমারার গড়াতি বিটে একটি গন্ডারের মৃতদেহ প্রথম দেখতে পান বনকর্মীরা। খবর যায় জলপাইগুড়ি বন বিভাগে। শুক্রবার আরও একটি গন্ডারের মৃতদেহ চোখে পড়ে টহলরত বনকর্মীদের। সূত্রের খবর দু’টি গন্ডারেরই খড়গ ছিল না। একটি গন্ডারের মাথায় গোল ক্ষতচিহ্ন দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যা চোরাশিকারিদের করা গুলির চিহ্ন বলে অনুমান। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যান জলপাইগুড়ির উচ্চপদস্থ বনাধিকারিকরা। কলকাতা থেকে এসেছেন প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) প্রদীপ ব্যাস।

বন দফতর সূত্রে খবর, একটি গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। তার শরীরে ইতিমধ্যেই পচন ধরেছে। দ্বিতীয়টির মৃত্যু হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। তবে গোটা ঘটনায় বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডের অভিযোগ, নজরদারিতে গাফিলতির জন্যই চোরাশিকারিদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে গন্ডার দু’টিকে। তা ছাড়া এত দিন আগে যদি গন্ডার দু’টির মৃত্যু হয়ে থাকে, তা হলে তাদের মৃতদেহ এত দিন কেন নজরে এল না টহলদাররত বনকর্মীদের, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পশুপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি।

এই বিষয়ে বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন, দু’টি গন্ডারের মৃতদেহই পুরোনো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করেই প্রধান মুখ্য বনপাল প্রদীপ ব্যাসকে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

এ দিন জঙ্গলেই গন্ডার দু’টির ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই গন্ডার দু’টির মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন বনাধিকারিকরা। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে বন দফতর ও পুলিশ।  সাহায্য করছে নাগরাকাটা থানার পুলিশ। স্নিফার ডগ নিয়ে চলছে তল্লাশি। বন্যপ্রাণ বিভাগের বনপাল (উত্তর মণ্ডল) সুমিতা ঘটক জানিয়েছেন, তদন্ত ও তল্লাশি জারি রয়েছে।

বছর দুয়েক আগে ধুপঝোড়া বিটে একটি গন্ডারের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এর পরে বন দফতরের কড়া নজরদারির ফলে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি। তবে ফের চোরাশিকারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় চিন্তার ভাঁজ বন দফতরের কপালে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here