১৮২-ই হারিয়ে যাওয়া বৃদ্ধা মা-কে ফিরিয়ে দিল ছেলের কাছে

0
517

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ১৮২। এই নম্বরই হারিয়ে যাওয়া ৮০ বছরের মা-কে ফিরিয়ে দিল ছেলের কাছে।

রেলের এই হেল্প-লাইন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ছেলে। সেই অভিযোগে তৎপর হয়েছিল রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স। তারই নিট ফল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মা-ছেলে মিলন। রেলের বিরুদ্ধে প্রায়শই বহু অভিযোগ শোনা যায়। কিন্তু এই ঘটনায় অনলাইন অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং রেল পুলিশের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সকলেই।

শনিবার বিহারের বৈশালী জেলার বাসিন্দা রামনাথ সিং তাঁর মা সুদামা দেবী-সহ পরিবারের অন্যদের নিয়ে শিলচর যাচ্ছিলেন দিল্লি থেকে অসমগামী সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসে। মাঝপথে বৃদ্ধা নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর ছেলে ও অন্যরা তল্লাশি করেও বৃদ্ধার খোঁজ পাননি। এর পর তাঁর ছেলে শনিবার দুপুরেই ফালাকাটা স্টেশনে নেমে মোবাইল থেকে রেলের হেল্প-লাইন নম্বর ১৮২-তে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগ তৎক্ষণাৎ অনলাইনে উত্তর-পূর্ব রেলের সমস্ত আরপিএফ অফিসে পৌঁছে যায়। তার সঙ্গে ফ্যাক্সে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেই অভিযোগের প্রতিলিপি এবং বৃদ্ধার ছবি।

বিজ্ঞাপণ

ট্রেনটি ক্রসিং-এর জন্য ওই দিন জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। সেই সূত্র ধরে তৎপর হয় সেখানকার আরপিএফও। অবশেষে সন্ধান মেলে ওই দিন রাতে। রোড স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর এলাকায় ‘লেবেল ক্রসিং’-এর কাছ থেকে বিধ্বস্ত অবস্থা পাওয়া যায় বৃদ্ধাকে। তাঁকে উদ্ধার করে নিজের কোয়ার্টারে নিয়ে আসেন এক রেলকর্মী। খবর দেন আরপিএফকে। কিন্তু বিপাকে পড়েন আরপিএফ জওয়ানরা। কারণ ওই বৃদ্ধার কথা, ভাষা কিছুই বুঝতে পারছিলেন না তাঁরা। তিনিই সেই নিখোঁজ বৃদ্ধা কি না তা পরিষ্কার হচ্ছিল না। পরে উদ্ধারকারী রেলকর্মীই এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, কারণ তিনিও বিহারের বাসিন্দা। ওই রেলকর্মীই তাঁকে নিজের কোয়ার্টারে সযত্নে রাখার ব্যবস্থা করেন রাতে। শুশ্রূষা করে তাঁকে বেশ কিছুটা সুস্থ করে তোলেন ওই রেলকর্মীর স্ত্রী। পর দিন সকালে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলেন বিহারের বাসিন্দা ওই রেলকর্মী। জানা যায়, তিনি সুদামাদেবী। তিনি জানান, বাথরুম যাওয়ার সময় বুঝতে না পেরে ট্রেনের খোলা দরজা দিয়ে তিনি নীচে নেমে পড়েন। তখন ট্রেন ক্রসিং-এর জন্য স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। এর পর ট্রেন চলতে শুরু করলে আর উঠেতে পারেননি তিনি। অচেনা জায়গায় হাঁটতে হাঁটতে পাহাড়পুর লেভেল ক্রসিং-এর কাছে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর যোগাযোগ করা হয় ছেলে রামনাথ সিং-এর সঙ্গে। তাঁরাও বিভিন্ন স্টেশনে খোঁজাখুঁজি করছিলেন। খবর পেয়েই সোমবার সকালে ছেলে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে চলে আসেন। সেই সময় আরপিএফ আধিকারিক আদিত্য কুমার মীনার ঘরে বসেছিলেন সুদামা দেবী। দেখেই তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ছেলে। সুদামা দেবীর চোখেও তখন জল।

আরপিএফ আধিকারিক আদিত্য কুমার মীনার হাত ধরে কেঁদে ফেলেন বছর চল্লিশের রামনাথ। কৃতজ্ঞতায়। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের তৎপরতার প্রশংসা করেন ছেলে রামনাথ। তাঁর বক্তব্য, যে ভাবে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছিল রেল পুলিশ, তার জন্যই মাকে ফিরে পেয়েছেন।

রেল পুলিশের আধিকারিক আদিত্য কুমার মীনা কিন্তু কৃতিত্ব রামনাথবাবুকেই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বৃদ্ধার ছেলে সচেতন ছিলেন, হেল্প-লাইন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে দ্রুত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। যার ফলেই তাঁকে দ্রুত খুজে বার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রেলযাত্রীরা যদি এই ভাবে সচেতন পদক্ষেপ করেন, তা হলে অনেক বিপদই এড়ানো সম্ভব। যে কোনো বিপদে রেলের হেল্প-লাইন নম্বর ১৮২-তে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here