অতিরিক্ত উৎপাদন, করলার স্বাদ ‘তেতো’ জলপাইগুড়ির চাষিদের কাছে

0
266

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: করলার স্বাদ এবার বেশি ‘তেঁতো’ লাগছে। বিশেষত চাষিদের কাছে।দাম না পেয়ে চাষের ফসল রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা।চাষের খরচটুকুও ওঠাতে না পেরে বিপুল লোকসানের মুখে কয়েক হাজার কৃষক। গোটা জলপাইগুড়ি জেলায় একই চিত্র করলা-চাষিদের।

জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ধুপগুড়ি সহ জেলার অনেক জায়াগায় করলার চাষ হয় প্রতিবছর।অর্থকরী ফসল হিসেবে বেশ নামডাক রয়েছে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই সবজির। কারণ বিহার, অসম, পঞ্জাবের মত রাজ্যগুলিতে রফতানি হওয়ায় বেশ দু-পয়সা আমদানি হয় কৃষকদের।তাছাড়া স্থানীয় বাজারে চাহিদা তো রয়েছেই। তাই অন্যান্য বছরের মত এবারও জেলা জুড়েই করলার চাষ হয়েছে। কিন্তু ফলন অত্যাধিক হয়ে যাওয়ায় সমস্যার মুখে পড়েছেন কৃষকরা।কারণ চাহিদার তুলনায় যোগান প্রায় দ্বিগুন। শুধুমাত্র ময়নাগুড়িতেই গতবছরের তুলনায় প্রায় ৩০%করলা বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। জেলার কৃষি দফতর সুত্রে খবর শুধু ময়নাগুড়ি ব্লক নয়, ধুপগুড়ি, মালবাজার মহুকুমাতেও এবার অত্যাধিক ফলন হয়েছে।স্বাভাবিক ভাবেই অংকের নিয়মে চাহিদার থেকে জোগান বেশি হওয়ায় দাম পড়ে গিয়েছে করলার।
বুধবার ময়নাগুড়ি রোড হাটে প্রায় ১০০০ ভ্যান করলা নিয়ে এসেছিলেন চাষিরা।দাম ওঠে কেজি প্রতি এক থেকে দেড় টাকা।নারায়ণ বিশ্বাস নামে এক চাষি জানিয়েছেন, যেখানে কেজি প্রতি করলার উৎপাদন খরচই দেড় টাকা, তার সাথে রয়েছে পরিবহণের খরচও। সেখানে কী ভাবে উৎপাদন খরচের থেকে কম দামে ফসল বিক্রি করবেন ?
দাম না পেয়ে কয়েক টন করলা রাস্তায় ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান পানবাড়ির কৃষক সাধন দাস, বৌলবাড়ির কৃষক আব্দুল হামিদ।কাঁচা সবজি হওয়ায়, পচে যাওয়ার কারণে করলা বাড়িতেও রাখতে পারেন না তাঁরা। রানিহাটের কৃষক সাধন দাস জানিয়েছেন, এলাকায় বহুমুখী হিমঘর থাকলে এই অবস্থা হত না।ফসল রেখে দিয়ে পড়ে দাম বাড়লে বিক্রি করা যেত।কিন্তু এখানে বহুমুখী হিমঘর না থাকায় তারা সেই সুবিধে পাচ্ছেন না।
বিহার থেকে করলা কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী রণজিৎ শাউ জানিয়েছেন, এখন বিহারেও অনেক জায়গায় করলার চাষ শুরু হয়েছে, তাই এখানকার করলার চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে।
গত সপ্তাহে কেজি প্রতি সাত থেকে আট টাকা দরে করলার দাম পেয়েছিলেন কৃষকরা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যাবধানে দাম কেন এত কমল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। হাফিজার রহমানে নামে এক কৃষক দাবি করেছেন, সরকার আলুর মত করলার সহায়ক মুল্য বেধে দিলে এই সমস্যা হত না।যদিও এই বিষয়ে কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেনি জেলা কৃষি দফতর। এই ধরনের কোনো সরকারি নির্দেশ তাদের কাছে নেই বলেই জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি কৃষিজ-বিপণন বিভাগের সহ-অধিকর্তা সুব্রত দে।এর সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, কোনো ফসল চাষ করার আগে বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রাখলে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন কৃষকরা।এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এলাকায় এলাকায় যাবেন বলেও জানিয়েছেন ওই কৃষি-আধিকারিক।ওপরমহলকে চাষিদের আর্থিক লোকসানের বিষয়ে অবহিতও করা হয়েছে কৃষি দফতর সুত্রে।তবে চলতি বছরে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়া কৃষকদের কাছে করলার স্বাদ “মিস্টি” হওয়া দূর-অস্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here