বাঘ-আক্রান্তদের সাহায্যে ‘স্টাফ’-এর পাশে কলকাতার ‘হোপ, হেল্প অ্যান্ড হিউম্যানিটি’

0
223
পাপিয়া মিত্র

এক দিকে হেড়োভাঙ্গা নদী আর জঙ্গল, অন্য দিকে বিদ্যাধরী, মাতলা। কখনও জল ভেঙে কখনও বা জঙ্গল পার হয়ে হানা দেয় দক্ষিণ রায়। সংসার ভাসিয়ে নিশ্চিন্তে হারিয়ে যায় গন্তব্যে। জায়গায় জায়গায় পরিবারের হাহাকার ভারী করে ঝড়খালিকে। এমনই ৬০টি পরিবারকে চাল-ডাল-তেল দিয়ে রেশনের ব্যবস্থা করা হল সম্প্রতি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালির এ ছবি মুছে যাওয়ার নয়। প্রতি মুহূর্তে ওঁত পেতে থাকে মৃত্যু। ঘন জঙ্গলের অন্ধকার যেন ঝুপ করেই নেমে আসে প্রতিনিয়ত। সুন্দরবনের বাঘে-মানুষে এবং কুমিরে-মানুষের নিরন্তর লড়াই আজ সর্বজনবিদিত। এ যেন মিথ হয়ে গিয়েছে। জঙ্গলে কাঠ, মধু আর নদী-খাঁড়িতে মাছ-কাঁকড়া ধরতে গিয়ে যাঁরা আর সংসারে ফিরে আসতে পারেননি, তাঁদের সংসারগুলি আজ চরম সংকটে। অশক্ত শরীরে তাঁদের অনাহার কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই চরম দুর্ভোগে থাকা এমন ৬০টি পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব নিল কলকাতার একটি সংস্থা। ‘চম্পা মহিলা সোসাইটি’র কর্ণধার ও বাসন্তী হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক অমল নায়েক পাশে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। তবে তিনি একা নন, তৈরি করে ফেলেছেন ‘সেভ টাইগার অ্যাফেক্টেড ফ্যামিলি’ বা ‘স্টাফ’ সংস্থা। এদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন নীরবে। যদিও ভাবনাটা ছিল তাঁর একার এবং ঘুরে বেড়িয়েছেন এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে।

এ বার নতু্ন উদ্যোগ। ‘সেফ টাইগার অ্যাফেক্টেড ফ্যামিলি’ বা ‘স্টাফ’-র পাশে দাঁড়িয়েছে কলকাতার প্রতিষ্ঠান ‘হোপ, হেল্প অ্যান্ড হিউম্যানিটি’। সম্প্রতি ‘চম্পা মহিলা সোসাইটি’র হলঘরে এ নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েহিল। ৬০টি পরিবারের প্রতি দিনের অন্ন-ব্যবস্থার কথা জানালেন সংস্থার কর্ণধার ও অভিনেতা দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে চাল-ডাল-তেল পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে সংস্থা। আগে সুন্দরবন ঘুরতে এসেছি কিন্তু মাস্টারমশাই অমল নায়েকের সঙ্গে আলাপ না হলে  জানতেই পারতাম না এখানকার দুর্দশার কথা।’’ ভেঙে পড়া পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটে। ব্যাঘ্র-বিধবা মা সুপ্রিয়া বল, শেফালি সরকার, সাবিত্রী মণ্ডলেরা স্বভাবতই খুশি এই ভেবে যে, তাঁরা নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাচ্ছেন, তাঁদের কথা ভেবে কেউ কেউ পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন।

বিজ্ঞাপণ

তবে এটা প্রথম নয়। এর আগেও কলকাতার একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ২৫ জন পড়ুয়ার হাতে এককালীন ২৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এর পর থেকে প্রতি মাসে দু’শো টাকা করে টিউশন বাবদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। সেইমতো কাজ এগিয়ে চলেছে। দেওয়া হয় মশারি-শাড়ি-স্কুলব্যাগ-চাদর লন্ঠন পোশাক-ছাগল-মুরগি ও নানা ধরনের বীজ ইত্যাদি। শুধু দেওয়া নয়, পাশাপাশি চলতে থাকে প্রশিক্ষণের কাজও। এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক প্রভুদান হালদার, হরিপদ বৈদ্য প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here