রিলায়েন্স, আলট্রাটেক-কে টেক্কা দিয়ে মোহন-ইস্টের স্পনসর হওয়ার লড়াইয়ে বহু সংস্থা

0
21925
শৈবাল বিশ্বাস

স্পনসরশিপ খোঁজার দৌড়ে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমান তালে দৌড়োচ্ছে। একই স্পনসরকে ধরতে গিয়ে সংঘাত লাগারও জোগাড় হয়েছে। তবে এ যাত্রায় দুই ক্লাবের কর্তারাই বুঝতে পেরেছেন নিজেদের মধ্য‌ে ঝগড়া করে খুব একটা লাভ হবে না।

এই মুহূর্তে যা খবর তাতে মোহনবাগানের ষোলো আনা সম্ভাবনা এ বারের আই লিগের জন্য‌ রিলায়েন্স জিওকে স্পনসর হিসাবে পাওয়ার। মোহনবাগান হিসাবরক্ষক দেবাশিস দত্ত এ ব্য‌াপারে এক প্রস্থ কথাবার্তা সেরে রেখেছেন বলেই আমাদের কাছে খবর। মোহনবাগানকে মুকেশ অম্বানির কাছে যেতে সাহায্য‌ করেছেন এআইএফএ-র সভাপতি প্রফুল পটেলও। তাঁর সঙ্গে মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি (যদিও পদত্য‌াগপত্র গৃহীত হয়নি) টুটু বসুর অত্য‌ন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সেই সূত্রেই কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছে। তা ছাড়া টুটুবাবুর নিজস্ব সোর্স বড়ো কম নয়। যাঁরা তাঁকে ঘনিষ্ঠ ভাবে চেনেন, তাঁরা ভালো করেই জানেন মুম্বই শিল্পপতিমহলে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি আছে জাহাজের ব্য‌বসার সূত্রে। কাজেই সরাসরি মুকেশ অম্বানির সঙ্গে কথা বলার ব্য‌াপারে তিনি কারও ওপর নির্ভরশীল নন।

স্পনসরশিপ নিয়ে এই আলোচনা যখন তুঙ্গে তখন মোহনবাগানের এক মাঝারি কর্তাকে মাঝেমাঝেই ওএনজিসি-র এক শীর্ষ কর্তার সঙ্গে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। ইস্টবেঙ্গলকেও ঘুর ঘুর করতে দেখা যাচ্ছে আইটিসি ভবনের আশপাশে।

অন্য‌ একটি গোপন সূত্রে শোনা যাচ্ছে, মোহনবাগানের সঙ্গে কুমারমঙ্গলম বিড়লা গ্রুপের কথাবার্তাও এগিয়েছে। তাদের আলট্রাটেক সিমেন্ট ব্র্য‌ান্ডটি মোহনবাগানের জন্য‌ যাতে বরাদ্দ হয় সে ব্য‌াপারে অনেকেই আগ্রহী হয়ে কথা চালাচালি শুরু করেছেন। কিন্তু বিড়লা গ্রুপের সঙ্গে এক প্রস্থ কথা এগিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের নীতু সরকারেরও। সে ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত যাতে না ঘটে সে ব্য‌াপারে দু’ পক্ষকেই সংযত থাকতে হচ্ছে। রিলায়েন্সের কাছ থেকে মোটামুটি সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে মোহনবাগান কোনো মতেই আর বিড়লাদের দিকে ঝুঁকবে না বলেই আপাতত সিদ্ধান্ত।

বিজ্ঞাপণ

ইস্টবেঙ্গল বিড়লাদের পাশাপাশি দু’টি চিনা মোবাইল কোম্পানির সঙ্গেও কথাবার্তা চালাচ্ছে। সে দু’টি হল অপ্পো ও জিওনি। অপ্পো বড়ো ভাবে ভারতে স্পোর্টস স্পনসরশিপে নামছে। ইতিমধ্য‌ে তারা ভারতীয় ক্রিকেট দলকে স্পনসর করা শুরু করেছে। নোকিয়ার মতো পুরোদস্তুর ক্রিকেট স্পনসরশিপের পাশাপাশি ফুটবলেও তারা হাত বাড়াতে ইচ্ছুক। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জিওনি কোম্পানিও কর্পোরেট স্পনসরশিপের ব্য‌াপারে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের একাংশ ইতিমধ্য‌েই ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি শ্রীনিবাসনের সেঞ্চুরি সিমেন্টের সঙ্গেও কথা বলেছে। এক প্রস্থ কথা এগিয়েছে ইউবি গ্রুপের বর্তমান মালিকের সঙ্গেও। তবে তাঁরা অর্থের যে পরিমাণ স্থির করেছেন তাতে ৫০ কোটি টাকার টিম নামানো সম্ভব নয়।

স্পনসর ধরার ব্য‌াপারে দু’টি টিমকেই সৌরভ গাঙ্গুলি সাহায্য‌ করবেন বলে কথা দিয়েছেন। মোহনবাগানের সঙ্গে অম্বুজা গ্রুপ এবং ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সিদ্ধা গ্রুপের যোগাযোগের তিনি মাধ্য‌ম হতে পারেন। তবে সৌরভের সাহায্য‌ নেওয়ার আগে দুই ক্লাবের কর্তারাই একটু ভাবছেন। কারণ সৌরভের সামনে এটিকে-র স্বার্থটাই সব চেয়ে বড়ো। সেই স্বার্থ বাদ দিয়ে কিছুতেই তিনি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে সাহায্য‌ করবেন না।

স্পনসরশিপ নিয়ে এই আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন মোহনবাগানের এক মাঝারি কর্তাকে মাঝেমাঝেই ফিক করে হাসতে দেখা যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য‌ সূত্রের খবর, তাঁকে দু-একবার ওএনজিসি-র এক শীর্ষ কর্তার সঙ্গে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে।

ঝুলি থেকে ইস্টবেঙ্গলও এখন বিড়াল বের করেনি। তাদেরও ঘুর ঘুর করতে দেখা যাচ্ছে আইটিসি ভবনের আশপাশে। কো-স্পনসরশিপের ব্য‌াপারে দেবেশ্বর নাকি শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছেন।

দেখা যাক।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলে ধরা না দিয়ে আইএসএল-কেই বাছলেন দুই তারকা

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here