Search

ছন্নছাড়া ফুটবলেও এক পয়েন্টে মুখরক্ষা ইস্টবেঙ্গলের

ছন্নছাড়া ফুটবলেও এক পয়েন্টে মুখরক্ষা ইস্টবেঙ্গলের

মাথায় হাত প্লাজার, কাছেই ম্যাচসেরা কিংসলে

সানি চক্রবর্তী :

ইস্টবেঙ্গল : ১ (বুকেনা) আইজল : ১ (কামু)

শেষ ১০-১৫ মিনিট বাদ দিলে ছন্নছাড়া, দিশাহীন ফুটবলে আই লিগের অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। খালিদ জামিলের আইজল এফসি বরং ম্যাচের বেশির ভাগটায় দাপট দেখাল। আর ওয়েডসন, রৌলিনরা হয়ে রইলেন ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা।

বারাসতে আই লিগের প্রথম ম্যাচে মিজোরামের দলটির সঙ্গে ১-১ করে লিগ অভিযান শুরু করল মরগ্যানের দল। কিন্তু তার দলের এ দিনের পারফরম্যান্স অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। আলফ্রেড-কামুর মতো কলকাতা লিগে ছোটো দলের হয়ে খেলে যাওয়া বিদেশিদের আটকাতেই হিমসিম খেল লাল-হলুদের ডিফেন্স। মাঝমাঠে স্বদেশি তারকার ছড়াছড়ি সত্ত্বেও মরগ্যানের মাঝমাঠ দানা বাঁধল না। আর স্ট্রাইকিং নিয়ে তো যত কম বলা যায় ততই ভালো। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরে ক্লান্ত প্লাজাকে নামাতে বাধ্য হলেন মরগ্যান, যিনি শহরে পা রাখার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচ খেলে ফেললেন। তবে প্রথমার্ধে ভালো খেলা জ্যাকিচাঁদকে বসিয়ে তাঁকে নামানো নিয়েও রয়েছে এক ধন্দ। প্ল্যান বি-তে বুকেনাকেও নামিয়ে দিয়ে তাঁর উচ্চতার সাহায্য নিয়ে সেটপিসে গোল করে শেষ লগ্নে ম্যাচ না বাঁচাতে পারলে আরও তীব্র হত প্রশ্নগুলো। প্লাজা ক্লান্ত থাকলেও যা খেললেন তা নিয়ে লাল-হলুদ সমর্থকরা আশাবাদী হতেই পারেন। বুকেনাও নিজের কাজটা করে গেলেন। তবে এ দিন চূড়ান্ত ব্যর্থ ওয়েডসন, রৌলিনরা। নিজেদের চেনা পজিশন, মাঠ না পেয়ে সে ভাবে খেলার গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতেই পারলেন না দু’জনে। মরগ্যান যদিও বললেন, “এক সঙ্গে খেলা যত বেশি হবে তত দানা বাঁধবে দলের খেলা। এ দিন দলকে লেগেছে যথেষ্ট ছন্নছাড়া। তবে শেষ দিকে দল ভালো খেলেছ। ম্যারাথন লিগের নিরিখে এক পয়েন্ট মন্দ নয়।” তবে ঘাসের মাঠে অনুশীলনের পরে কৃত্রিম ঘাসে ম্যাচ খেলার জেরেই তারকারা হোঁচট খেলেন, এই যুক্তি মানতে চাইলেন না সাহেব কোচ। দলের কম্বিনেশনের অভাবে যে তিনি বেশ অখুশি তা কিন্তু বুঝিয়ে গেলেন। পেশাদারি ঢংয়ে নিজেকে মুড়ে রাখলেও বেরিয়ে এল, “আগের দিনের অনুশীলনে যেটা করা হয়েছে, ম্যাচে নেমে সেটা করতে ভুলে গেলে তো মুশকিল। সে ক্ষেত্রে দলে ফুটবলারদের স্থান পাওয়া নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে।”

প্লাজা, রাহুলরা কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচ জেতার, কিন্তু তা তাঁরা নষ্ট করেছেন দৃষ্টিকটূ ভাবে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্লাজার শট এক হাতে যে অনন্য দক্ষতায় বাঁচিয়েছেন আইজলের গোলরক্ষক আলবিনো গোমেজ, তাকে মোমেন্ট অফ দ্য ম্যাচ বলাই যায়। বরং দু’টি ক্ষেত্রে রেহনেশের সেভের জেরে হার এড়িয়েছে তারা। বিশেষ করে জয়েশ রানের ঘূর্ণি চিপ শটটি। বাকি সময়টা ম্যাচসেরা কিংগসলে দারুণ ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন আইজল রক্ষণে।

ম্যাচের শেষে যদিও ১২ জন ফুটবলার খেলিয়েছে আইজল বলে দাবি তুলে তাদের তিন পয়েন্ট কাটার দাবি তোলেন বেশ কিছু ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। শেষ লগ্নে কামুর পরিবর্তনের সময়ে বেশ কয়েক সেকেন্ড মাঠে ১২ জন ফুটবলার ছিল আইজলের। রেফারি ওম প্রকাশ ঠাকুর যদিও সঙ্গত কারণেই নিয়মমাফিক তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান। আর আইজলের পয়েন্ট কাটার কোনো প্রশ্নই যে নেই তা পরিষ্কার করে দেন ম্যাচ কমিশনার রিজওয়ানুল হক। বলে দেন, “ওই সময়ে ফুটবলারটির চোট লেগেছিল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাই ওরা ১২ জন হয়েছিল। রেফারি তাই হলুদ কার্ডও দেখিয়েছেন। কিন্তু এতে পয়েন্ট কাটার কোনো জায়গা নেই।” সূত্রের খবর, ইস্টবেঙ্গল গোটা বিষয়টি নিয়ে লিখিত আবেদন করতে পারে, সে ক্ষেত্রে আইজল দলকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে কোনো ভাবেই ম্যাচের ফলাফল পালটানো বা রিপ্লে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ইস্টবেঙ্গল : রেহনেশ, রাহুল, গুরবিন্দর (বুকেনা), আনোয়ার, নারায়ণ, মেহতাব, রৌলিন, ওয়েডসন, নিখিল (অবিনাশ), জ্যাকিচাঁদ (প্লাজা), রফিক।

শেয়ার করুন

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন