ছাত্র-ভোট নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, জলপাইগুড়িতে নেমেছে র‍্যাফ

0
37

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: বিরোধীপক্ষকে অস্তিত্বহীন করে দেওয়া সত্ত্বেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন করা যায়নি। সৌজন্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। ছবিটা জলপাইগুড়ি জেলার। এখানকার ৯টি কলেজেই ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদ’-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদ’-ই। আর তাতেই তটস্থ পুলিশ। নেমেছে বিশাল পুলিশবাহিনী, নেমেছে র‍্যাফ।   

বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, তাদের মননোয়নপত্র তুলতেই দেওয়া হয়নি। এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক অঞ্জন সেন জানিয়েছেন, ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র তোলার প্রথম দিন থেকে সন্ত্রাস করে, ভয় দেখিয়ে তাদের ছাত্রদের মনোনয়ন তুলতেই দেওয়া হয়নি। ডিএসও’র জেলা সম্পাদক শ্যামল দাসের অভিযোগ, কয়েকটি কলেজে তারা মনোনয়নপত্র তুলতে পারলেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বাধায় তা জমা দেওয়া যায়নি। একই অভিযোগ তুলেছে ছাত্র পরিষদ এবং এভিবিপিও। বস্তুত, জেলার ৬টি কলেজে ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

তবে কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারেই নেই? অবশ্যই আছে এবং তা নিজেদের মধ্যেই।

জলপাইগুড়ি শহরের আনন্দচন্দ্র কলেজ (আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স)-এ ৪৮টি আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ১১০টি এবং সবগুলিই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বলে স্বীকার করে নিয়েছেন কলেজেরই এক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী দেবজিৎ সরকার। এর থেকেই প্রমাণিত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

jal-col-1তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি অভিজিৎ সিনহা ও যুব তৃণমূল-এর জেলা সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জির মধ্যে টানাপোড়ন বহু দিনের। মূলত এই দু’জনের অনুগামীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শামিল। বৃহস্পতিবারও এর জেরে অশান্তি ছড়িয়েছে শহরের প্রসন্নদেব মহিলা মহাবিদ্যালয়ে। দুই গোষ্ঠীর ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়ায়। দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের এনে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। সেই সঙ্গে অনেককে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছে দুই গোষ্ঠী। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়ে তারা। অবস্থা সামাল দিতে নামানো হয় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ। ঘটনাস্থলে আসেন জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে। কলেজের পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর ১১ জন ছাত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ, যদিও সন্ধে নাগাদ তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি অভিজিৎ সিনহা’র সরাসরি অভিযোগ, যুব তৃণমূল সভাপতি এক্তিয়ার বহির্ভুত ভাবে ছাত্র নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করছেন। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ অভিযোগ অস্বীকার করে যুব তৃণমূল সভাপতি সৈকত চ্যাটার্জি পালটা অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, গুণ্ডা দিয়ে ছাত্র নির্বাচন করাচ্ছেন দলের ছাত্র সভাপতি।

তবে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে জানিয়েছেন, যে দলই হোক না কেন, ছাত্র নির্বাচনে অশান্তি রুখতে তারা বদ্ধপরিকর। ছাত্র নির্বাচন নিয়ে কোনো রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here