ইস্টবেঙ্গলে পরিবর্তনের প্রস্তুতি, মোহনবাগানে স্থিরতার

0
24

সানি চক্রবর্তী :

লাল-হলুদের চতুর্থ বিদেশি হলেন স্ট্রাইকার ইল্ডার অ্যামিরভ।

প্রায় গোটা দলই এখন হাতে এসেছে গিয়েছে দুই প্রধানের দুই কোচের। এ বার তাই ফের শুরু হচ্ছে নতুন করে ঘুঁটি সাজানোর প্রক্রিয়াটা। ইস্টবেঙ্গল শিবিরে যখন নতুন করে বোঝাপড়া ও সমীকরণ তৈরির ব্যস্ততা, উলটো দিকে তখন অনেকটাই স্থিরতা মোহনবাগান শিবিরে। সোমবার রাতেই এশিয়ান কোটার চতুর্থ বিদেশিকেও চূড়ান্ত করে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। কিরগিজস্তানের স্ট্রাইকার ইল্ডার অ্যামিরভকে দলে নিল তারা। এখন দেখার ভিসা সমস্যার বেড়া টপকে কত তাড়াতাড়ি দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। প্রথম ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সে ভাবে সফল না হয়ে যখন নিজের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরছেন ট্রেভর জেমস মরগ্যান, সঞ্জয় সেন তখন সেট দলে আরও উন্নতির পথ খুঁজছেন। প্রথম ম্যাচে সে ভাবে দারুণ কিছু না খেললেও সঞ্জয়-জমানার ট্র্যাডিশন ধরে রেখে জয়টা এসেছে। তাই তুলনামূলক প্রসন্ন চেতলানিবাসী বলছেন, “আসল তো তিন পয়েন্টটাই। সেটা এসেছে। এ বার সামনের দিকে তাকানো।” ম্যাচের পরের দিনে বিশ্রামের পরে ফের মঙ্গলবার থেকে সেই লক্ষ্যে নেমে পড়ছেন তিনি।

ও দিকে মরগ্যান এক দিনের বিশ্রামের পরে নেমে পড়েছেন সোমবারই। প্রথম ম্যাচে ড্র যেন কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে দলের অনুশীলনে ও সমর্থকদের উদ্যমেও। তাই নিজেদের মাঠে অনুশীলনেও হাতে গোনা ১৫-২০ জনের বেশি সমর্থকের দেখা নেই। যদিও নতুন উদ্যমে কড়া অনুশীলনে তাতে কোনো খামতি নেই মরগ্যানের। পাশাপাশি, আইজল ম্যাচের থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে নিজের প্রথম একাদশ সাজানোর কাজে লেগে পড়লেন এ দিন থেকেই। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরে অনুশীলন করে সে দিনই দু’টি অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলতে রওনা দেবে লাল-হলুদ শিবির। তার আগে যতটা সম্ভব নিজের নতুন প্রথম সারির সৈনিককুল তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। অনুশীলন যদি ইঙ্গিত হয়, তা হলে আগামী শনিবারের ডিএসকে শিবাজিয়ান্স ম্যাচ থেকে বাদ পড়তে চলেছেন একঝাঁক ফুটবলার। সেই তালিকায় থাকতে পারেন গুরবিন্দর, রাহুল, রৌলিন, জ্যাকিচাঁদ, নিখিল, রফিকরা। অনুশীলনের শেষে সিরিয়াস মরগ্যান সেই কথাই ইঙ্গিতে বুঝিয়ে বলে গেলেন, “দলে কার কী কাজ সেটা সবার জানা, কেউ নিজের কাজটা না ঠিকমতো করতে পারলে দল থেকে বাদ পড়তে হবে। তাদের স্থান পূরণে ফুটবলারের অভাব নেই।” অভিষেকে গোল করা বুকেনা যে প্রথম একাদশে থাকছেন তাতে কোনো সন্দেহই প্রায় নেই। তবে এখনও পুরোপুরি ফিট বলে মনে হল না তাঁকে। রাইট ব্যাকে আসতে পারেন রবিন গুরুং। মাঝমাঠে মেহতাবের সঙ্গী হতে পারেন ডেভিড, ডিকারা। পাশাপাশি অনুশীলনে উইলিস প্লাজা ও সেমবই হাওকিপকে রেখে ডাবল স্ট্রাইকারে অনুশীলন করিয়ে যেন অল-আউট অ্যাটাকে যাওয়ার লক্ষ্মণটাই রাখলেন ব্রিটিশ কোচ। হাওকিপ দেরিতে আসায় তাঁর উপর গোঁসা করে প্রথম ম্যাচে খেলাননি, এখন রাগ অনেকটাই কমেছে। পাহাড়ি ফুটবলারটিও ছন্দে রয়েছেন। তবে অনুশীলনে সব থেকে বেশি ছন্দে পাওয়া গেছে প্লাজাকে। ক্লান্তি দূর করে একেবারে চনমনে তিনি। মরগ্যানও মজেছেন প্লাজার গোল পাওয়ার খিদেতে।

সব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যদি কিছু থাকে, তা হলে তা হতে চলেছে ওয়েডসনের স্থান পরিবর্তন। মাঝমাঠে জলছাড়া মাছের মতো লেগেছিল তাঁকে আগের দিন। তাই হাইতিয়ানকে তার পছন্দের রাইট উইং-এ ফেরত নিয়ে যেতে পারেন লাল-হলুদ কোচ।

অপর দিকে, তরুণ শুভাশিসের লাল-কার্ড নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না সঞ্জয়। তরুণ তারকাকে আগলে বলছেন, “বাচ্চা ছেলে ও, এ রকম ভুল হতেই পারে। শেখার জন্যই তো বড়ো দলে এসেছে। তবে এ রকম ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিয়ে সাবধান করেছি।” এ দিকে, বলবন্তের দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের পরে শুরু হয়ে গিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনা। জেজে দেরিতে আসায় তাঁকে ‘বিশ্রাম’ দিয়েছিলেন সঞ্জয়ও। এ বার দেখার আগামী ম্যাচগুলোতে ভারতের দুই সেরা স্ট্রাইকারের মধ্যে কে শুরু করেন সবুজ-মেরুন দলের প্রথম একাদশে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here