khabor online most powerful bengali news

অন্দরসজ্জা: আলোর ঠিকানা ৩

moitryমৈত্রী মজুমদার

আধুনিক কালে অন্দর মহলের আলোক সজ্জায় মুড লাইটিং ব্যবহারের কথা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। আর এই মুড বা ইনডাইরেক্ট আলোকসজ্জা সবচেয়ে জরুরি হল শোয়ার ঘরে। কারণ এই জায়গাটিতেই দিনের শেষে এসে আপনি বিশ্রাম নেবেন। আবার অবসরে আড্ডা মারবেন বা প্রয়োজনে পড়াশোনা করবেন। এই ঘরটির আশেপাশেই অনেকটা সময় কেটে যায় আপনার। তাই এই ঘরের আলোক সজ্জায় একটু বেশিই যত্নশীল হওয়া উচিৎ।

আপনার শোয়ার ঘর হওয়া উচিৎ আপনার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী এবং সেই ভিন্নতাটা আসবে আলোকসজ্জার ওপর ভিত্তি করে।

amazon

শোয়ার ঘর যদি সাবেকি ধরনে সাজাতে চান, তাহলে এর পুরো এলাকায় সমান আলোক বণ্টনের দিকে নজর দিতে হবে। ফলসসিলিং থাকলে এই কাজটি খুবই সুন্দর ভাবে করা যায়। এতে আলো ইনডাইরেক্ট হয়েও সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু চোখে অসুবিধা হয় না। সঙ্গে কিছু অন্য ফিটিংস ডেকোরেশনের স্বার্থে রাখতে পারেন।

1

আপনার যদি ফ্যান্সি বেডরুম পছন্দের হয় সেক্ষেত্রে ফ্যান্সি ঝাড়বাতি খুবই উপযুক্ত। আর ঘরের আয়তন অনুযায়ী এক বা একাধিকও লাগানো যেতে পারে।

2

কিন্তু যদি সাদামাটা  শোবার ঘর আপনার পছন্দ হয় তাহলে  বেডসাইড টেবিলে টেবিল ল্যাম্প এবং ওয়াল প্যানেলিং-এর আড়ালে লাইট, এরকম জায়গা বিশেষে প্রয়োজন মতো আলোর ব্যবহার করতে হবে।

3

আপনার নিজস্ব শোওয়ার ঘরটি বাদে যদি বাড়িতে অতিরিক্ত বেডরুম থাকে যেটা হয়তো অতিথিদের থাকার জন্য বা পড়াশনা করা বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারার সময় ব্যবহার করেন, সেখানে আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা সাহসী বা এক্সপেরিমেন্টাল পদক্ষেপ করতে পারেন লাইট ফিটিং পছন্দের ক্ষেত্রে।

home-1

 

 

তবে যদি বাড়িতে বাচ্চা থাকে, তাহলে তাদের ঘর সাজানোর জন্য যারপরনাই ক্রিয়েটিভ হওয়ার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয়তা সমান সমান। এবং এক্ষেত্রেও আকর্ষণীয় অন্য ধরনের ফলস সিলিং-এর ব্যবহার আপনার আলোকসজ্জার কাজকে সুবিধাজনক করে তুলবে।

6

কিন্তু যদি তা না করতে চান তাহলে আরও একটু বেশি মাথা খাটিয়ে নিজের পছন্দ মতো আলো বিভিন্ন নক্সার সঙ্গে মিলিয়ে থিম বানিয়ে নিন আর স্থানীয় মিস্ত্রি কাজে লাগিয়ে সেভাবে বানিয়ে নিতে পারেন আপনার আলোকসজ্জা।

home-2

এত ঝামেলায় না যেতে চাইলে, ঘরের বিভিন্ন জায়গার উপযোগিতা অনুযায়ী আলাদা আলাদা রকম আলো লাগান। যেমন পড়ার টেবিলের ওপর টেবিল ল্যাম্প, খাটের হেডবোর্ডের পাশে নাইট স্টাডি ল্যাম্প, ঘরের মাঝে পেন্দেন্ট বা কাগজের ফ্যান্সি লাইট ফিটিং ইত্যাদি।

8

যেভাবেই সাজান না কেন বাজারে আজকাল খুবই আকর্ষণীয় জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাই সার্ভেটা ভালো ভাবে করে নেবেন।

সবার শেষে আসব সেই জায়গার আলোকসজ্জার কথায়, যার কথা সচরাচর পিছনের সারিতেই থাকে। অথচ বাড়ির ও তাতে বসবাসকারীদের শরীর স্বাস্থ্যের সজীবতা এর ওপরেই অনেকটা নির্ভরশীল। সেটি হল বাথরুম।

একটা সময় ছিল যখন বাথরুমের জন্য বরাদ্দ হত সবচেয়ে   কম বাজেট এবং তা বাল্বের পাওয়ারেও নজরে পড়তো। এমন বাড়িও আছে যেখানে জিরো পাওয়ার বা ডিমলাইট বরাদ্দ হয় বাথরুমের জন্য। কিন্তু এটি কোনো দিক থেকেই সুখকর নয়।

বাথরুম যেহেতু বাড়ির অতি প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে একটা তাই এখানকার আলোকসজ্জাও বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিৎ।

আপনার বাড়িতে বাথরুমটি যদি ছোটো হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু ডাইরেক্ট লাইটিং-ই হওয়া উচিৎ। যদি অল্পের মধ্যে সারতে চান, একটি পছন্দসই লাইট ফিটিং নিয়ে তাতে জোরাল আলো হয় এমন এলইডি লাইট লাগিয়ে নিন। যাতে পুরো জায়গাটি যথেষ্ট আলোকিত থাকে এবং আপনি সকাল বা সন্ধ্যে সবসময়ই তা পরিষ্কার রাখতে পারেন।

11

যদি অন্যরকম কিছু করতে চান, তারও বহু উপায় আছে।

বাথরুমের কাজের জায়গা অনুযায়ী এলাকা ভাগ করে নিন। এবার বাথরুমের থিম অনুযায়ী বেসিনের ওপর ওয়ালব্র্যাকেট, বা হ্যাঙ্গিং বা সিলিং রিসেসড লাইট লাগাতে পারেন। যার ফোকাস হবে নিচের দিকে। আর বেসিনে  হাতমুখ ধোয়া বা মুখে টাচ আপ করা, দাড়ি কাটার সময় নরম আলো দেবে।

12

শাওয়ার এলাকায় অল্প জোরালো আলো লাগাতে পারেন এবং অবশ্যই সিলিং-এ লাগানো লাইট ফিটিং-এর ওপরই জোর দিন এই স্থানে। তাতে লাইট-এ জল লাগার সম্ভাবনা থাকে না।

13

আপনার বাথরুম যদি বেশ বড়োসড়ো হয়, সেক্ষেত্রে তাকে ল্যাভিস করে তুলতে পারেন একই থিমের বিভিন্ন লাইটফিটিং লাগিয়ে। এবং সেখানে ওয়াল ব্র্যাকেট থেকে শুরু করে, সিলিং থেকে ঝোলানো ঝাড়বাতি সবই লাগানো যায়।

14

অবাক হচ্ছেন? আপনার বাড়ির অন্দরমহল, আপনার ব্যাক্তিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। তাই একে সাজানোর ক্ষেত্রে দোটানায় থাকবেন না। মনের জানলা দরজা খুলে, ইচ্ছের ডানা মেলে দিন। দেখবেন তাজা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে নিতে আপনার অন্দরমহল পেয়ে গেছে চেনা-অচেনার মায়ায় ঘেরা সেই ‘আলোর ঠিকানা’ ।

(শেষ)

ছবি: ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন