অন্দরসজ্জা : আলোর ঠিকানা ২

1
135

moitryমৈত্রী মজুমদার

আলো যেমন আশার প্রতীক সেভাবেই মানুষের মনন বা মানসিকতার ওপরও আলোর প্রভাব সংশয়াতীত। তাই অন্দরসজ্জার সময় আলোর ব্যবহার, সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারিক দিকটি মাথায় রেখেও করা দরকার।

সারাদিন বিভিন্ন কাজের মাঝে যতটা মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে আজকাল আমাদের যেতে হয় তাতে বাড়ি ফেরার পর আমাদের দরকার শান্তি আর স্বস্তির পরিবেশ। আর এই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে আলোর ভুমিকাই সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞাপণ

তাই আধুনিক সময়ে বাড়িঘর সাজাতে আলোর ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে যে তথাকথিত সাদা আলোর টিউবলাইট, সিএফএল বা হলুদ আলোর সাধারণ বাল্ব ব্যবহার না করে, ইনডাইরেক্ট বা মুড লাইটিং ব্যবহার করাই শ্রেয়।

1

আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম বাড়ির সদর দরজার ভিতরে আর বাইরে যথাযথ আলোর ব্যবহার নিয়ে। সদর দরজা দিয়ে যেখানে পদক্ষেপ পড়ে তা হল বসার ঘর। আর আজকালকার আধুনিক ফ্ল্যাটবাড়িতে বসার ঘরটি বসার ও খাবার ঘর মিলিয়ে বড়ো হলঘর, সে যে ধরনেরই বাড়ি হোক। বসার ঘরটিতে আলোর ব্যবহার বুঝে শুনে করতে হবে।

যদি এখানে ফলস সিলিং-এর ব্যবহার করা হয় তা হলে সেই সিলিং এই রিসেসড লাইট ফিটিং লাগানো যায়। না হলে ওয়াল ব্র্যাকেট লাইটও লাগাতে পারেন। সোফার সাইডে টেবিল ল্যাম্প বা ফ্লোর ল্যাম্প রেখে আলোর ব্যবহার করা যেতে পারে। 

2

বসার ঘরের অন্যতম উপাদান হল আপনার টেলিভিশন সেটটি। এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি ভাবে মনে রাখতে হবে যে, টিভি দেখার সময় যাতে চোখে সরাসরি আলো না পড়ে আবার টিভি-র ওপরও যেন সরাসরি আলো না পড়ে। ছোটোবেলায় মনে আছে, ঘর অন্ধকার করে টিভি দেখার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু এটি ঠিক নয়। এতে চোখ খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। টিভি দেখার সময় আলোর প্রয়োগ ঠিক রাখার জন্য টিভি সেটের পিছনটি যাতে আলোকিত থাকে সে ভাবে লাইট লাগানো উচিত। 

3

এমনকি টিভি সেটের পজিশন এমন হওয়া উচিত যাতে সকালের আলোতেও দেখতে গেলে চোখে ক্লান্তি না আসে। 

4

বসার ঘর বড়োসড়ো হলে সেখানে আলাদা করে একটি নিজস্ব পছন্দের জায়গা তৈরি করে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সোফার পাশে একটি ফ্লোর লাইট লাগানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপ বা ডাউন দু’ধরনের ফিটিং-ই উপযুক্ত। 

5a

এ রকম নিজস্ব জায়গা তৈরির ক্ষেত্রে অনেক ধরনের লাইট ফিটিং কম্বিনেশন করে লাগাতে পারেন। শুধু লক্ষ রাখতে হবে যাতে ফিটিংগুলি একে অপরের সঙ্গে মানানসই হয়। 

5

খাওয়ার ঘরের ক্ষেত্রে সব চেয়ে উপযুক্ত হল সিলিং থেকে ঝোলানো লাইট, যা টেবিলের খবারের ওপর পড়ে। সঙ্গে অবশ্য ওয়াল ব্র্যাকেটও লাগানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মূলত ম্যাচিং ফিটিং লাগাতে হবে। 

6

খাওয়ার ঘরের সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাটি সেটি হল রান্নাঘরের আলোকসজ্জা। রান্নাঘরে যে হেতু বেশি আলো দরকার সে ক্ষেত্রে ট্র্যাক লাইট লাগানো যেতে পারে সিলিং-এ। একই সঙ্গে বেশি আলোও পাওয়া যাবে আর সাদা আলো ব্যবহার করতে হবে না। 

7

এগুলি একটু বেশি দামি হয়। তাই তা না লাগাতে চাইলে ঘরের মাঝামাঝি সিলিং-এ একটা বড়ো আলো লাগাতে পারেন, বিশেষ দরকারে ব্যবহার করা যাবে। আর কাজের সুবিধার জন্য কিচেনের  আপার ক্যাবিনেটের তলায় আলো লাগাতে পারেন। আবার ক্যাবিনেটের ওপরও সিলিং-এ পড়ার মতো করে আলো লাগানো যেতে পারে। 

8

রান্নাঘর খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। তাই তার ভিতর আলোর ব্যবহার ঠিক হওয়া খুবই জরুরি। তাই তা ছোটো বা বড়ো যাই হোক, নীচের ছবিতে দেখে নিন কোন কোন জায়গায় কোন ধরনের আলো লাগানো উপযুক্ত। 

9

আপনার বাড়ি আপনার খুবই আপন। তাই একে আরও সুন্দর ও নিজের বিভিন্ন প্রয়োজনের উপযুক্ত করে তুলতে আলোর ব্যবহারের প্রতি যত্নশীল হয়ে উঠুন। (চলবে)

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

বিজ্ঞাপন

1 মন্তব্য

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here