অন্দরসজ্জা : আলোর ঠিকানা ১

0
18

moitryমৈত্রী মজুমদার

এ বছরের মতো পুজো শেষ, শেষ আলোর উৎসব দীপাবলিও। কিন্তু শেষ হলেও রয়ে গেছে তার রেশ। এটা অবশ্য নিয়ম করে প্রতি বছরই হয়। বা বলা ভালো, প্রকৃতির এটাই নিয়ম। বাংলা ক্যালেন্ডারে কার্তিক মাস। হেমন্তের হাতছানি গাছে গাছে। হাওয়ায় উত্তুরে হিমেল পরশ। শেষ রাতে হাল্কা চাদরের উষ্ণতা। আহা… বিছানা ছাড়তেই যেন আর মন চায় না। এ রকম দিনে সাঁঝের বেলায় দীপান্বিতার আলো, রোজ রোজ হলেই বা মন্দ কী? বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফির কাপটা হাতে নিয়ে তাই ভাবছিলাম। ছোটবেলায় দীপাবলির মোমবাতিগুলো যত নিভতে থাকত, তত মনটা খারাপ হতে থাকত। এ যেন পুজোর ছুটির মেয়াদ শেষের বার্তাবাহক। আবার একটা বছরের অপেক্ষার পালা।

1

তবে আজকাল বাজারে সস্তা আলোর সরবরাহের জন্যই হোক বা মানুষের ব্যয়ক্ষমতা বাড়ার জন্যই হোক, দীপাবলি পেরিয়ে খ্রিস্টীয় নববর্ষ পর্যন্ত, বেশির ভাগ জায়গাই আলোকমালা সুসজ্জিত হয়ে থাকে। বেশ ভালো লাগে, বছরের শেষ ক’টা মাসের হিমের পরশের বৈপরীত্যে এই উষ্ণ আলোকময় দৃশ্যমানতা। 

আলো, তা উষ্ণতাই ছড়াক, অথবা অন্ধকারই দূর করুক, মানবসভ্যতার ইতিহাসে সে চিরকালীন আশার প্রতীক। আর অন্দরসজ্জার ক্ষেত্রে তো আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। সমস্ত বাড়িঘর সুন্দর করে আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে ফেললাম অথচ ঠিকঠাক আলোর প্রয়োগ করলাম না, ব্যাস তা হলে পুরো ব্যাপারটাই মাঠে মারা যাবে। আবার ধরুন, ছিমছাম বাড়ি, আসবাবপত্র পুরোনো, কিন্তু কায়দা করে আলোকসজ্জা করা হল। তা হলেই কেল্লা ফতে।

চলুন তবে, আপনার বাড়ি অনুযায়ী ঠিকঠাক আলোর ঠিকানার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি।

শুরু করা যাক, প্রবেশদ্বার দিয়ে। 

প্রবেশদ্বার হল সেই জায়গা যেখান দিয়ে শুধু যে আপনিই বাড়িতে ঢোকেন, তা কিন্তু নয়। আপনার জীবনের সুখশান্তি, ধনসম্পত্তি আবার বাধাবিঘ্ন, সবই একই পথে আপনার ঠিকানায় প্রবেশ করে। সঙ্গে অতিথি তো আছেই। তাই প্রবেশদ্বারকে অবহেলা করবেন না।  প্রবেশদ্বারের বাইরে এবং ভিতরে যথাযথ আলো লাগান।

1b

বাইরের ক্ষেত্রে ওপেক কাচ থাকা ওয়াল বা সিলিং মাউন্টেড লাইটফিটিং লাগাতে পারেন। সুন্দর ফয়ার থাকা প্রবেশদ্বার হলে ছোটো পেনডেন্ট লাইটও ভালো লাগবে।

সদর দরজা খুললেই বাড়ির ভিতরের অংশে যদি বড়ো হলঘর থাকে সে ক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় ঝাড়বাতি লাগান। আজকাল বাজারে নানা ডিজাইনের এবং দামের ঝাড়বাতি পাওয়া যায়। এক্কেবারে ট্র্যাডিশনাল যেমন পাবেন আবার আলট্রামর্ডার্নও পাবেন। আপনার ঘরের সঙ্গে মানানসই জিনিসটি শুধু খুঁজে নেওয়ার অপেক্ষা।

2

প্রবেশদ্বারের ভিতরে যদি সে রকম বড়ো জায়গা না থাকে, সে ক্ষেত্রে ছোটো পেন্ডেন্ট লাইট লাগান আর সঙ্গে মানানসই ওয়াল ব্র্যাকেট লাইট।

3

আবার যদি আপনার সাবেকি বাড়ি থাকে যেখানে ঢুকতে হলে অনেক অলিন্দ পেরিয়ে যেতে হয়, তা হলে অলিন্দের গায়ে একই রকমের আপ লাইটার ওয়াল ব্রাকেট লাগাতে পারেন। সাথে সিলিং অনেক উঁচু হলে সিলিং থেকে স্বচ্ছ কাচের পেন্ডেন্ট, পরিবেশকে খুবই আমন্ত্রণীয় করে তুলবে।

4

হতে পারে আপনার বাড়ির সদর দরজায় পৌঁছোতে অনেকগুলো সিঁড়ি পেরোতে হয়। সে ক্ষেত্রে জায়গা থাকলে ছোট্টো ছিমছাম ঝাড়বাতি ঝোলাতে পারেন।

5

আবার জায়গা অনুযায়ী লাগিয়ে নিতে পারেন কেতাদুরস্ত হ্যান্ডমেড কাগজের বা জুটের বল লাইট। আজকাল বাজারে খুবই পাওয়া যায় এই জাতীয় আলো। সঙ্গে দেওয়ালে কুলুঙ্গির মতো করে জায়গা বানিয়ে আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন। এই ধরনের সজ্জা আপনার প্রবেশদ্বারকে অন্য মাত্রা দেবে, পাশাপাশি আপনার সৃজনশীল মননকেও ভাবনার রসদ জোগাবে।

6

লাইট ফিটিং-এর সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে লাগানোর লাইটের প্রসঙ্গও স্বাভাবিক ভাবেই এসে যায়। তাই বলে রাখা ভালো, আলোকসজ্জার সঙ্গে হলুদ আলোর একটি প্রগাঢ় যোগাযোগ আছে আর হলুদ আলো মানেই চিরপরিচিত ২০, ৪০, ৬০ ওয়াটের বাল্‌ব। আজকাল কিন্তু চিরাচরিত বাল্‌বের ব্যবহার উঠে গেছে। পরিবেশ দূষণের কথা মাথায় রেখে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী এই সব বাল্‌বের ফিটিং ব্যবহার করবেন না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ এবং বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে বাজার থেকে এলইডি লাইট-ই কিনুন। প্রথম পর্যায়ে একটু বেশি দাম লাগলেও সামগ্রিক ভাবে এতে আপনার সাশ্রয় হবে, পরিবেশও বাঁচবে।

7

তা হলে আর দেরি কেন? আপনি আপনার ঘরের আলোকসজ্জাকে মানানসই করে তোলার কাজে মন দিন। আমরা ফিরে আসব আরও অনেক আলোর ঠিকানা নিয়ে পরবর্তী পর্বগুলোতে।

(ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগৃহীত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here