Search

‘ওগো মায়া ওগো বাতায়ন’: মনোজ্ঞ গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান

‘ওগো মায়া ওগো বাতায়ন’: মনোজ্ঞ গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান

‘কোনও কিছুকে দেখার জন্য একটা ম্যানুয়ালের দরকার হয়। সেদিনের কলকাতাকে দেখার জন্য আমি একটা ম্যানুয়াল লিখে গেলাম। যদি কারও দরকার পড়ে উল্টে দেখবেন।’‘ওগো মায়া ওগো বাতায়ন’ বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশে এমনটাই বলছিলেন বইয়ের লেখক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি নন্দন-৩ এ আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল বইটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, বাংলাদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার তনভীর মোকাম্মেল। লেখক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং প্রচ্ছদ-অলঙ্করণ শিল্পী সনাতন দিন্দা তো ছিলেনই।

অনুষ্ঠান শুরু হতে কিছুটা দেরি হযে যাওয়ায় প্রথা অস্বীকার করে কোনো গান গল্প বাদ দিয়েই সঞ্চালক শ্রী কুশল ভট্টাচার্য পোডিয়ামে ডেকে নেন সনাতন-কে। সঞ্জয়ের ছাত্র-বন্ধু সরাসরি গেলেন ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে; বললেন সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্যের কথা আর বইখানির পাণ্ডুলিপি পড়ে তাঁর মুগ্ধতার কথা। গল্প উপন্যাস অলঙ্করণের মতো, বিষয় বা ঘটনা ধরে ছবি আঁকেননি তিনি। বরং বইটি পড়ার অনুভব পাওয়া যাবে তাঁর চারকোল চিত্রণে। বলতে উঠে বর্ষীয়ান তনভীরের কথায় উঠে এল অমোঘ দেশভাগ, দুই বাংলার বিচ্ছিন্নতা, সেই আক্ষেপ, আক্ষেপ পেছনে ফেলে বাঙালির বুদ্ধিজীবীতার সম্বৃদ্ধ ইতিহাস— সব; সে সবই যে ঘুরে ফিরে এসেছে পিতৃপরিচয়ে ‘বাঙাল’ সঞ্জয়ের লেখায়; আর সেই বীক্ষণ যে শুধুই স্মৃতিকাতরতা নয়, জানিয়ে গেলেন তা’ও। এরপর আনুষ্ঠানিক ভাবে বই প্রকাশ।

ogo-maya-ogo-batayan

বই প্রকাশ পর্ব আবেগ-কাল দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত পরের বক্তা সুরঞ্জন দাসের নাম ঘোষণা করেন সঞ্চালক। প্রখ্যাত ঐতিহাসিকের দক্ষ প্রশাসকে পরিবর্তিত মেজাজ ধরা থাকল তাঁর ভাষণে। উৎসাহ দিলেন এমন নবীন প্রয়াসকে, বিবেচনা করতে দিলেন কিছু সম্পাদকীয় খুঁটিনাটি, তুলে ধরলেন সঞ্জয়ের রচনার বিশেষত্ব এবং বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার নানা বিবেচনা। মেধাচর্চার নবীন প্রজন্ম, নবীনতার অমোঘ অতিরেক আর গণতন্ত্রের প্রতি অকুণ্ঠ বিশ্বাস— তাঁর ভাষণকে রেকর্ড না করে, পরবর্তী গ্রন্থনার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ সঞ্চালকের গলায়। বিরতির পোডিয়াম যায় পাঠকের দরবারে। পাঠকের দিক থেকে শোনা গেল একদিকে সঞ্জয়ের লেখা নিয়ে মুগ্ধতা, অন্যদিকে বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের দিশাহীনতা, সংস্কৃতির চর্চার অতি কলকাতা কেন্দ্রিকতা নিয়ে আক্ষেপ। শেষ বক্তা স্বাভাবিক ভাবেই লেখক। তিনি যে কেবল খ্যাতিমান প্রকাশকের সঙ্গে পা মিলিয়ে চলা ক্ষমতা বা অন্যকিছুর কুমির নন; সে তো অনুষ্ঠানে স্বতঃ-প্রকাশ। আরো দেখা গেল প্রকাশক রাজা পোদ্দার বা সংকলক সুশোভন প্রামানিকের মত নবীনদের প্রতি তাঁর স্নেহ এবং আস্থা। সভা শেষে লেখক, অলঙ্করণ শিল্পী, বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে পাঠক সংসর্গ, সই সংগ্রহ; সঞ্চয় কিছু মুহূর্ত।

শেয়ার করুন

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন