অনাম্নী ‘আলিফা’-র সাদা-কালো স্বপ্ন ছুঁয়ে যায় দর্শকদের

0
16

madhumantiমধুমন্তী চট্টোপাধ্যায় :

নান্দীকার আয়োজিত ৩৩তম জাতীয় নাট্যমেলার উদ্বোধনী নাটক ছিল ‘আলিফা’। গ্রিক বর্ণমালার প্রথম অক্ষর আলফা থেকে আলিফা। নান্দীকারের নিজস্ব প্রযোজনা। মূল নাটক রচনা করেছেন পৈলি সেনগুপ্ত। অনুবাদ করেছেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। নাট্য পরিচালনায় সোহিনী সেনগুপ্ত।

প্রথমেই যেটা বলা দরকার, পরিচালক হিসেবে সোহিনীর কাজ বেশ পরিণত লেগেছে। বিশেষ করে নান্দীকারের ‘মিউজিক্যাল ড্রামা’-র মুন্সিয়ানার ধারে কাছে না গিয়ে একদম অন্য ভাবে পরিচালনার প্রয়াস প্রশংসার যোগ্য। নাটকের প্রেক্ষাপট বর্তমান সমাজ। শ্রেণি এবং ধর্মের সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় মেয়েদের সার্বিক অবস্থা এবং সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, এই ছিল নাটকের মূল বিষয়। মূল প্রটাগোনিস্টের নাম জানা যায়নি সারা নাটকে। তার নাম ধরে ডাকার মতো ছিল না কেউ জীবনে। আপাতত, নাটকের নাম ধরেই ডাকা যাক সেই মেয়েকে। আলিফা।

বাপ-মা মরা আলিফার ছোটোবেলাটা আমাদের দেশের বস্তিতে বড়ো হওয়া পাঁচটা মেয়ের মতোই ভীষণ সাধারণ। ‘ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল’-এ পড়া আসমা কোনো এক অজানা উপায়ে হয়ে ওঠে আলিফার ফ্রেন্ড-ফিলজফার-গাইড। তার পর এক দিন শহর ছেড়ে চলে যায় আসমা। স্কলারশিপ বন্ধ হয়ে গেলে আলিফার একলা বাঁচা থমকে যায় ক্ষণিকের জন্য। সেখান থেকে নতুন লড়াই। লড়াই থেকে স্বপ্ন। সব হারানোর দলে যারা, সেই মেয়েদের, তাদের মায়েদের মাঝে আলিফা বিলোতে থাকে তার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের চেহারাটা ‘সাদা পাতার ওপর কালো কালো’। বর্ণমালা শিখতে শিখতে মায়েরা এক দিন প্রশ্ন করে, “দিদি, গান্ধারী কেন সারা জীবন চোখে ফেট্টি বেঁধে থাকল? আমরা কখনও কারোর জন্য এমন বোকামি করব না।” মহাভারতের কাল থেকে চলে আসা প্রশ্নাতীত আনুগত্যকেও প্রশ্ন করতে শেখে ওরা। প্রিয় আলিফা দিদি তাদের বোঝাতে পেরেছে, ‘পড়াশুনো শিখলে কনফিডেন্স বাড়ে’। কিন্তু শুধু শিক্ষাতেই সমস্যার সমাধান কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেয় না ‘আলিফা’।

এ বার আসা যাক অভিনয়ের কথায়। আলিফার চরিত্রে ছিলেন স্বয়ং পরিচালক। তবে অভিনেত্রী সোহিনীর চেয়ে পরিচালক সোহিনীকে অনেক বেশি মার্জিত মনে হয়েছে। নিয়মিত তাঁর অভিনয় দেখলে দর্শকের একঘেয়ে লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে অতিনাটকীয়তা দিয়েও কী ভাবে দর্শককে বুঁদ রাখা যায় এবং চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায়, তা সোহিনী ভালোই বোঝেন। ক্ষমতাবান রাজনীতিকের অকর্মণ্য ছেলের চরিত্রে সৌমন্ত গাঙ্গুলি যথাযথ। মঞ্চসজ্জা, আলো এবং আবহের ব্যবহারে মিনিমালিস্টিক অ্যাপ্রোচ প্রশংসনীয়। অহেতুক সংলাপের কচকচি নেই। জমকালো উপস্থাপনা নেই। আছে শুধু খুব জোরালো এবং প্রাসঙ্গিক বার্তা। এটুকু সম্বল করেই  ভাবিয়ে দিয়ে গেল ৭০ মিনিটের ‘আলিফা’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here