khabor online most powerful bengali news

‘দাদা’—বঙ্গ জীবনের অঙ্গ

হরিদাস পাল
‘দাদা’ শব্দটি বাঙালির বড়ই প্রিয়। ডাকের সঙ্গে সঙ্গে কেমন যেন মধু ঝরে পড়ে। উল্টো দিকের ব্যক্তিটি গলে যায়। ভিড় বাসে জায়গা মিলে যায়। তবে ‘দাদা’ শব্দটি থেকে একটা ‘দা’ সরিয়ে দিলে তা যেন আরও মধুর হয়। আপন হয়। যেমন, মন্টুদা, ঘণ্টুদা, পটলদা ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার যেমন, ফেলুদা। তিনি তো বঙ্গ জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছেন। সিন্ডিকেট থেকে খেলার মাঠ — সর্বত্র দাদারা বিরাজমান।
কেন হঠাৎ দাদা নিয়ে কথা পড়লাম ভাবছেন তো? আসলে আমার এক দাদা কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন, পাবলো নেরুদার প্রতি বাঙালির একটা ‘সফট কর্নার’ আছে। একটা সময় যেমন জাঁক দেরিদার প্রতি ছিল।
আমি বললাম, থাকবে না! নামের শেষে দেখুন ‘দা’ শব্দটি আছে।
মগজাস্ত্রকে শান দিতে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে বসেছিলাম। কেন কাকা নয়, জ্যাঠা নয়, দাদার এত প্রভাব-প্রতিপত্তি। অনেক মাথা চুলকে উত্তর পেলাম। আসলে কাউকে দাদা বানিয়ে দেওয়ার সুবিধা অনেক। দাদা যদি ক্ষমতাশালী হয় তবে তো কথাই নেই। দাদার ভোগপ্রসাদ পেয়ে দিব্য লব-চপানি করা যায়। ঝড়-ঝাপটা সব দাদা সামলে দেবেন। অফিসে এক বাটি সরষের তেল নিয়ে এক বার দাদা ধরে ফেলতে পারলেই হল, মাইনে বাড়া নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। তেল খায় না এমন দাদা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
রাজনীতির ক্ষেত্রেও দাদা ধরার একটা সুবিধা আছে। বেশি ভাবনা-চিন্তা করে ক্যালোরি খরচা করতে হয় না। দাদাই ভেবে দেন। দাদার প্রদর্শিত পথে চললেই হল।
এ বার দাদার কথায় আসি। দাদাগিরি করাটা বাঙালির একটা পপুলার নেশা। নিজের চারটি চেলা-চামুণ্ডা থাকলে মন্দ লাগে না। প্রশ্ন-টশ্ন করবে না। বেশ পেছন-পেছন ঘুরঘুর করবে। চাইলে কলাটা-মুলোটা এনে দেবে। তবে, প্রশ্ন করলেই ভাই-লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে দেবে।
সমাজ তো আর এক ভাবে চলে না, পরিবর্তন আসে। দাদার মতো দিদিও বেশ পপুলার হয়েছে বঙ্গ জীবনে। পপুলার হয়েছে দিদিগিরি। বাংলা দেখছে দিদিগিরির দাপট।
দিদির ধাক্কা খেয়ে বামেরা বুঝেছে, ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ‘বাবু’ আর চলবে না। এ বার চাই প্যান্ট-জামা পরা ফেলুদা, টেনিদা টাইপ দাদা। তবেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা। দিদিকে রুখতে এবার বাম-কংগ্রেস দু’পক্ষের দুই দাদা হাতে-হাত মিলিয়েছেন। উল্টো দিকে ভাইদের কুকীর্তির কাদা কাপড়ের আড়ালে লুকিয়ে একা দিদি। দাদা-দিদির ‘ব্যাটেলে’ কে জেতে জানা যাবে ১৯ মে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন