Search

সবুজের সমুদ্র বাংরিপোসি

সবুজের সমুদ্র বাংরিপোসি
শক্তি চৌধুরী সে দিন সকালে যখন ধৌলি এক্সপ্রেস থেকে বালেশ্বর স্টেশনে নামলাম, আকাশের মুখ তখন বেজার। সারা রাস্তাই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখে দেখে আমরাও বেশ ক্লান্ত ও ভীত, গেল বোধহয় ট্যুর-টা। এই বালেশ্বর থেকে বাংরিপোসি যাওয়ার একটা লোকাল ট্রেন আছে সকাল ১১ টা নাগাদ এবং ওটাই সব চেয়ে সহজ উপায়। এ ছাড়াও গুচ্ছ টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায়।... আরও পড়ুন

নার্সিসাস কাঞ্চনঞ্জঙ্ঘা

নার্সিসাস কাঞ্চনঞ্জঙ্ঘা
দেবারতি গুপ্ত ঠান্ডায় ঠান্ডা জায়গায় ঘুরে এলে ঠান্ডা কম লাগে। এ রকম একটা মন-ভোলানো বিশ্বাস নিয়ে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ নাগাদ রওনা দিয়েছিলাম দার্জিলিং মেলে এনজেপি’র উদ্দেশে। আসল গন্তব্য পরে বলছি। কুয়াশায় যথারীতি ট্রেন পৌঁছোতে ঘন্টা খানেক লেট করল। তাতে কী! ততক্ষণে অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়ে গেছে মাথার মধ্যে। কাজেই কোনো কিছুতেই দমছে না মন। এনজেপি থেকে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে, ঘন্টা... আরও পড়ুন

সপ্তাহান্তে চলুন জয়রামবাটি-কামারপুকুর

সপ্তাহান্তে চলুন জয়রামবাটি-কামারপুকুর
স্মিতা দাস বিছানায় শুয়ে ঘুম চোখ খুলে চিন্তা আর চাক্ষুষে কোনো মিল পেলাম না। চিন্তায় ভেসে বেড়াচ্ছে শীতের ভোর সাড়ে চারটে, মঙ্গল আরতির সেই তিরতির করে জ্বলা আগুন শিখা। তখন ঘড়িতে ভোর চারটে পনেরো। সবাই মিলে হুড়োহুড়ি করে কোনো রকমে গরম জামা গায়ে চাপিয়ে মায়ের ঘরে যাওয়ার ধুম পড়ে গেল। পুকুরপাড় আর বাগানের মাঝের রাস্তাটা দিয়ে যে যার মতো ছুটছি।... আরও পড়ুন

গ্রামের নাম তিংভং

গ্রামের নাম তিংভং
সঞ্জয় চক্রবর্তী গ্রামের নাম তিংভং। কীসে যাব ? কেন ? এই তো ট্রেনে করে শিলিগুড়ি, সেখান থেকে যাত্রা শুরু। শাটল জিপ ধরে সিংথাম। ওখান থেকে আবার একটা শাটল। গন্তব্য মঙন (মোট পাঁচ ঘন্টা)। তার পর অপেক্ষা। ওখানে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা ডুপডেন লেপচার। আমি, আপনি ওঁর বাড়ির অতিথি। আমরা যাচ্ছি জংগু। সিকিম তথা ভারতের একমাত্র সংরক্ষিত লেপচা অঞ্চল। ৪৫টা গ্রাম নিয়ে... আরও পড়ুন

ময়নাপুরের অক্ষয় স্মৃতি

ময়নাপুরের অক্ষয় স্মৃতি
শম্ভু সেন স্বামীজি সাগ্রহে পড়ি/পুঁথি শিরে রাখে ধরি/সাবাস শাঁকচুন্নি মাস্টার।/জননী সারদামণি/অক্ষয়ে ডাকাইয়া আনি/ আশীর্বাণী কহিলা তাহার।।/নবভাগবত কথা/গাহিলেন বসি যেথা/ নৈমিষারণ্য সম খনি।/রামকৃষ্ণ তীর্থমালা/বঙ্গভূমে সমুজ্জ্বলা।/ময়নাপুর তার মাঝে মণি।। “শাঁকচুন্নি মাস্টার ?” “বেঁটে, কালো, রুগ্ন শরীর, অযত্নে বর্ধিত দাঁড়িগোঁফ, মাথায় বিরাট পাগড়ি, মোটা ফ্রেমের চশমা।  সব মিলিয়ে এমন একটা চেহারা যা দেখে স্বামী বিবেকানন্দ ডাকতেন ‘শাঁকচুন্নি মাস্টার’ বলে। স্বামীজি যাঁদের ভালবাসতেন তাঁদের... আরও পড়ুন

রনডিয়ায় সূর্যাস্ত

রনডিয়ায় সূর্যাস্ত
শম্ভু সেন ছল ছল করে গ্রাম…. না, চূর্ণী নদী তীরে নয়, এ নদী সেই নদী ‘বৈশাখ মাসে যার হাঁটুজল থাকে….’। আর ভরা বর্ষায় ? এ-কুল ও-কুল দু’কুল ভেসে যায়। না, হৃদয়ের নয়, এই নদীর। ঠিক এই ভাবে অবশ্য বলেননি তিনি। চায়ের গেলাসে চামচ দিয়ে চিনি নাড়তে নাড়তে ‘বাংলার দুঃখের’ গল্প শুনিয়েছিলেন তিনি। মাঝবয়সি মানুষটি অবশ্য এ সবই শুনেছেন তাঁর বাপ-ঠাকুরদার... আরও পড়ুন

শ্রাবণরাতে তালসারিতে

শ্রাবণরাতে তালসারিতে
শম্ভু সেন “আঁধার অম্বরে প্রচণ্ড ডম্বরু বাজিল গম্ভীর গরজনে।/অশ্বত্থপল্লবে অশান্ত হিল্লোল সমীরচঞ্চল দিগঙ্গনে/নদীর কল্লোল, বনের মর্মর, বাদল-উচ্ছ্বল নির্ঝরঝর্ঝর,/ধ্বনি তরঙ্গিল নিবিড় সংগীতে –- শ্রাবণসন্ন্যাসী রচিল রাগিনি।/কদম্বকুঞ্জের সুগন্ধমদিরা অজস্র লুটিছে দুরন্ত ঝটিকা।/তড়িৎশিখা ছুটে দিগন্ত সন্ধিয়া, ভয়ার্ত যামিনী উঠিছে ক্রন্দিয়া — /নাচিছে যেন কোন প্রমত্ত দানব মেঘের দুর্গের দুয়ার হানিয়া।” ‘রুদ্র নাচের তালে’ ঝড় উঠেছিল সেই রাতে। বেদম ঝড়। তার পরে উথালিপাথালি বৃষ্টি।... আরও পড়ুন

বাংলার গোকুলে

বাংলার গোকুলে
শম্ভু সেন আরে, এ তো আর এক পঞ্চরত্ন মন্দির। তবে পোড়ামাটির প্রাচীন মন্দির নয়, একেবারে হাল আমলের ইট-বালি-সিমেন্টের। গা থেকে এখনও নতুনের গন্ধ যায়নি। তবে এই মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। রয়েছে প্ল্যাটফর্ম, টিকিট কাউন্টার, স্টেশন মাস্টারের ঘর। এ হল গোকুলনগর স্টেশন, বাংলার গোকুল। হবে না-ই বা কেন ? মল্লভূমি বিষ্ণুপুর যদি গুপ্ত বৃন্দাবন হয়, তা হলে ঢোলসাগর থেকে প্রবাহিত যমুনা-তীরের... আরও পড়ুন

আমাদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

আমাদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
শম্ভু সেন বাংলার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ দেখতে চাস, গনগনি ঘুরে আয় –– আমার আমেরিকা-ঘোরা বান্ধবী বলেছিল। ও কিন্তু সিরিয়াসলি বলেছিল। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল বাড়াবাড়ি। ঘুরে এসে মনে হয়েছিল, খুব ভুল বলেনি। ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ আমার ছবিতেই দেখা। কিন্তু গনগনিকে চোখে দেখে মনে হয়েছিল, এ-ই বা কম যায় কীসে ? একটু খুলে বলি। ভালো নাম শিলাবতী, আদরের নাম শিলাই। দৈর্ঘ্যে খুব বড়... আরও পড়ুন

দিঘা বার বার

দিঘা বার বার
শম্ভু সেন এই নিয়ে কত বার দিঘা আসা হল তোমার ? ১২৭ বার। যা! – ঋভু বিস্মিত। না, আসলে এত বার দিঘা আসা হয়েছে যে গুনতির বাইরে চলে গেছে। সি-হকের যে ঘরটা লনের সঙ্গে লাগোয়া হয়ে একটেরে, ছন্নছাড়া, সেই ঘরের বিছানায় শুয়ে শুয়ে খোশ গল্প করছি সকলে। এই ঘরটায় থাকলে মনে হয় সমুদ্রেই শয্যা পেতেছি। এরই সংলগ্ন সি-হকের পাঁচিল, তার... আরও পড়ুন