khabor online most powerful bengali news

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৯/ ঝান্ডির আঙিনায়

শ্রয়ণ সেন: পাশের কটেজের ছোট্টো একটা হট্টগোলে ঘুমটা গেল ভেঙে। ঘড়িতে তখন সাড়ে চারটে, ভোর নয়, বিকেল। আসলে বরেলি মাছ সহযোগে গরম ভাত। দুপুরের খাওয়াটা বেশ জম্পেশ হয়েছিল। বরেলি উত্তরবঙ্গের মাছ, এই তথ্যটা জানা ছিল। কিন্তু এ বার ভ্রমণ শুরুর থেকে এক দিনও সেই মাছ চেখে দেখার সুযোগ হয়নি। সুযোগটা এসে গেল এখানে এসেই। দুর্দান্ত রেঁধেও ছিলেন এখানকার রাঁধুনি। এরই প্রভাবই লম্বা ভাতঘুম, যার ফলে অসাধারণ একটা মুহূর্ত থেকে বঞ্চিতই হয়ে যেতাম হয়তো। যাই হোক, তড়িঘড়ি বিছানা থেকে উঠে ব্যালকনিতে এলাম। সামনে সুবিশাল, শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। বিকেলের পড়ন্ত রোদের লাল আভা তার গায়ে। সেই লাল আভা দিয়েই দিনের মতো পাততাড়ি গোটালেন…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৮/ সঙ্গী জলঢাকা

শ্রয়ণ সেন: মূর্তি নদীর মাঝে রকি আইল্যান্ডে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবার পথ চলা শুরু। জলঢাকাকে এ বার সঙ্গী করতে হবে। সামসিং নেমে এসে, বাঁ দিকের রাস্তা ধরলাম। এ পথের সৌন্দর্য বলে বোঝানোর ভাষা আমার নেই। দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগানের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে আমাদের বোলেরো। পাহাড় আবার কিছুটা দূরে সরে গিয়েছে। চা বাগানের মধ্যে দিয়ে কিলোমিটার দশেক যেতে এসে পড়ল মৌরে গ্রাম। তিন রাস্তার সংযোগস্থলে এই গ্রামটি। ডান দিকের রাস্তাটি চলে যাচ্ছে চালসার কাছে খুনিয়া মোড়। আমরা এগিয়ে চললাম সামনের দিকে। ফের শুরু হয় গেল পাহাড়ি পথ। রবার গাছের সারি আমাদের স্বাগত জানাল। গৈরিবাসে পেয়ে গেলাম জলঢাকাকে। ঝালং-বিন্দুর পথে প্রথম…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৭/ সামসিং, সান্তালেখোলা হয়ে রকি আইল্যান্ড

মূর্তি নদী, রকি আইল্যান্ড শ্রয়ণ সেন ‘রকি আইল্যান্ড’ — মানে পাথুরে দ্বীপ। নামটা শুনে প্রথমে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। দ্বীপ তো প্রধানত সমুদ্রেই হয়। নদী-দ্বীপ বলতে জানি অসমের মাজুলি। ব্রহ্মপুত্রের বুকে বিশাল দ্বীপ এই মাজুলি। কিন্তু উত্তরবঙ্গের ছোটো নদীতে দ্বীপ কী ভাবে হবে? এই কৌতূহলকে সঙ্গী করেই বেরিয়ে পড়েছি, এক দিনের ট্যুরে। গন্তব্য সামসিং হয়ে সান্তালেখোলা, এবং রকি আইল্যান্ড। চালসা থেকে এগিয়ে চলেছি সামসিং-এর দিকে। মালবাজারের দিক থেকে এলে চালসা মোড় থেকে বাঁ দিকে মেটেলির পথ। সে দিকে ঘুরতে হয়। মেটেলি পেরোতেই বদলে গেল প্রাকৃতিক চরিত্র। রাস্তার দু’ধারে চা-বাগান। দু’টি পাতা-একটি কুঁড়ি তুলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। সামসিং পৌঁছোতেই হঠাৎ করে কাছে চলে…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৬/ মূর্তির ধারে

শ্রয়ণ সেন: আলাপ হয়েছিল সুনীতার সঙ্গে। নদীর ধারে ছোট্টো ঝিটেবেড়ার দোকান এই নেপালি তরুণীর। রয়েছে চা-কফি-চাউমিন-মোমোর ব্যবস্থা। শাশুড়ি-মেয়েকে নিয়ে চালসায় থাকে সুনীতা। স্বামী কর্মসূত্রে আছে জলপাইগুড়িতে। সুনীতা রোজ এগারোটা নাগাদ চলে আসে এখানে। বিকেলের দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। রাত আটটায় দোকান গুটিয়ে ফিরে যায় বাড়ি। পাঁচ দিন হল উত্তরবঙ্গে এসেছি, কোনো বিশ্রামের সুযোগ পাইনি সেই অর্থে। হয় হোটেলে চেকইন করেই ছুটতে হয়েছে জঙ্গল সাফারির জন্য। কখনও বা হোটেলে ঢুকেছি এক্কেবারে সন্ধে নাগাদ। এমন কোনো জায়গায় কি যাওয়া যায়, যেখানে গিয়ে শুধু বিশ্রামেই কাটিয়ে দেওয়া যাবে একটা দিন। তখনই নজরে এল মূর্তি। বক্সা-জয়ন্তি, জলদাপাড়া, গরুমারার কাছে যেন কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে মূর্তি।…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৫/ জল্পেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

জল্পেশ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে এক চিলতে কাঞ্চনজঙ্ঘা  শ্রয়ণ সেন: “এই থামো থামো থামো…” আমার আকস্মিক নির্দেশে জোরে ব্রেক কষল সারথি। তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। আমাকে দেখে বাকিরাও নামল। কিন্তু তখনও জানে না কী ব্যাপার। —“কী রে নামলি কেন?” —“আরে ওই দিকে তাকাও। ওকে দেখা যাচ্ছে।” দূরের পাহাড়ে হালকা মেঘের ওপর থেকে উঁকি মারছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। উত্তরবঙ্গ সফরে এই প্রথম দেখা পেলাম তার। লাটাগুড়ি থেকে জল্পেশ মন্দির যাচ্ছি। দক্ষিণমুখো রাস্তা। কিন্তু আমার নজর মাঝেমধ্যেই পড়ছে উত্তর দিকে। ও দিকেই তো পাহাড়। শুনেছি আকাশ পরিষ্কার থাকলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ সমতল এলাকা থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। বর্ষা বিদায় নিয়েছে কিছু দিন হল। গত কয়েক…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৪/ যাত্রাপ্রসাদে যাত্রাপালা

শ্রয়ণ সেন: “ওরে ওকে দ্যাখ সবাই। ও নদী পেরিয়ে চলে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়েছে।” না, কোনো মানুষ নয়। একটি গন্ডার। আপন খেয়ালে নদী পেরিয়ে চলে গেল। সঙ্গী একটি বক। ওর পিঠের ওপরে বসে হেলতে দুলতে যাচ্ছে। অনেকটা দূরত্ব থেকেই তা উপভোগ করে চলেছি আমরা। ডুয়ার্সের দু’টি প্রধান জাতীয় উদ্যান। জলদাপাড়া আর গরুমারা। আগের দিন জলদাপাড়ায় এক গন্ডা গন্ডার দর্শন হওয়ার পর, এ বার গন্ডার দেখার আশায় চলে এসেছি গরুমারা জাতীয় উদ্যানের কাছেই লাটাগুড়িতে। ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই ছুটতে হল লাটাগুড়ি নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টারে। গরুমারা সাফারির জন্য টিকিট কাটতে হবে। বেলা বারোটায় খুলবে কাউন্টার। এখান থেকে বিভিন্ন পয়েন্টের সাফারির টিকিট…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৩/ খয়েরবাড়ির বাঘিনীরা

শ্রয়ণ সেন: “হাতি দেখলে আগে খুব ভয় পেতাম, এখন আর পাই না।” কত অবলীলায় এই কথাগুলো বলে ফেলল বছর দশেকের মামণি। খুব সুন্দর একটি ঘণ্টা কাটল আমাদের। মাদারিহাট থেকে বীরপাড়ার দিকে কয়েক কিলোমিটার এলে বাঁ দিকে দিকনির্দেশ খয়েরবাড়ির। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে মেঠো পথ। এমন রাস্তা, যেখানে যে কোনো মুহূর্তেই হাতি বেরোতে পারে। নিতান্ত কম দূরত্ব নয়। প্রায় কিলোমিটার দশেক যাওয়ার পর দেখা মিলল পুনর্বাসন কেন্দ্রটির প্রবেশদ্বারের।   বাঘ, চিতাবাঘের পুনর্বাসন কেন্দ্র এই সাউথ খয়েরবাড়ি নেচার পার্ক। সার্কাসে বাঘের খেলা দেখানো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখানেই তাদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। চোরাচালানকারীদের ডেরা থেকে উদ্ধার করা চিতাবাঘদেরও রাখা হয়েছে এখানে। টিকিট কেটে…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ২/এক গন্ডা গন্ডার দর্শন

শ্রয়ণ সেন: “এই যা ময়ূর দেখে ফেললাম!” “হ্যাঁ, তো কী হয়েছে। জঙ্গল সাফারিতে ময়ূর তো দেখবই।” “আরে বুঝতে পারছিস না, এ রকম ভাবে ময়ূর দেখে ফেলা ঠিক না। এখন গন্ডার-টন্ডার না দেখেই ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হবে।” —“আরে চিন্তা কোরো না, গন্ডার ঠিক দেখা দেবেই, আমি বলে দিচ্ছি।” –“বলছিস তা হলে। তোর মুখে ফুল-চন্দন পড়ুক।” পিসির সঙ্গে কথোপকথন। জলদাপাড়া উদ্যানে সাফারি শুরুতেই ময়ূর দর্শনে পিসি বেশ হতাশ। ওর মতে, জঙ্গল সাফারির শুরুতে ময়ুর দেখে ফেলা না কি দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। এর ফলে নাকি জঙ্গলের মূল বাসিন্দা দর্শন দেয় না। অবশ্য এর পেছনে অকাট্য একটা যুক্তিও দিল পিসি। ময়ূর আছে কারণ আশেপাশে কোনো…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ১ / বক্সা হয়ে জয়ন্তি

শ্রয়ণ সেন: বাঁধের ওপর বসে ‘বাঁধ ভাঙা’ উপভোগ করছি। না কোনো হেঁয়ালি নয়। আসলে বসে রয়েছি জয়ন্তি নদীর ধারে উঁচু বাঁধটার ওপর। আর উপভোগ করছি চাঁদের হাসির বাঁধ ভাঙা। প্রাক-পূর্ণিমার চাঁদ এখন আকাশে। তার আলোয় চারিদিক আলোকিত হয়ে রয়েছে। কানে আসছে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীটির মিষ্টি একটা গর্জন। অথচ দিনটা শুরু হয়েছিল বেশ বিশ্রি ভাবেই। আবহাওয়াই আমাদের ভ্রমণের সমস্ত আনন্দ মাটি করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সবে শেষ হয়েছে পুজো, কিন্তু বৃষ্টির কোনো বিরাম নেই। বেশ কয়েক দিন ধরেই প্রবল বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে। সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই গতকাল এনজেপিতে নেমে সোজা চলে এসেছি মালবাজার। আজ সকালে মালবাজার…

আরও পড়ুন

ভাবসাগর পাড়ে গঙ্গাসাগর

শক্তি চৌধুরী এসপ্ল্যানেড বিধান মার্কেটের উলটো দিকের বাসস্ট্যান্ড থেকে সকাল সাড়ে ছ’টার বাসের টিকিটটায় সিট নম্বর দেখে নিজেকে বেশ নিশ্চিন্ত লাগল, যাক বসতে পাওয়াটা পাকা। কিন্তু এ কী গেরো! বাসে উঠে দেখি আমার জায়গায় পরম নিশ্চিন্তে বসে এক বিহারি দম্পতি গল্পগুজবে মত্ত। মেজাজটা সক্কাল সক্কাল গেল বিগড়ে। “ইয়ে হমারা সিট হায়, আপলোগ সিট ছোড়ো”, যেন মহাত্মা গান্ধী ইংরেজকে ভারত ছাড়তে বলছেন এ রকম একটা সুরে হুঙ্কার ছাড়লাম। আমার মেজাজ দেখে ওঁরা তাড়াতাড়ি সরে পড়লেন। পরে বুঝতে পারলাম ওঁরা বুঝতেই পারেননি যে আগে থেকে টিকিট কাটতে হয়। এই উপাখ্যানটা না বললেও চলত, কিন্তু বললাম আপনাদের এই ধারণা দেওয়ার জন্য যে গঙ্গাসাগরে…

আরও পড়ুন