Search

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ৩ / দারিংবাড়ি ছাড়িয়ে

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ৩ / দারিংবাড়ি ছাড়িয়ে
শম্ভু সেন : দিনে মালুম হয়নি ততটা। রাতে ঠান্ডা পড়েছিল ভালোই। তাই লেপের মায়া কাটাতে বেশ সময় লাগল। ততক্ষণে সূর্য ঘরবসত জমিয়ে বসেছে। আজ আর তার উদয় দেখা হল না। এই ইকো হোম থেকে সূর্য একটু আড়ালে পড়ে। তাই গেট থেকে বেরিয়ে ঢাল বেয়ে কয়েক পা নেমে এসে পরিত্যক্ত পান্থশালার সামনে আসতে হয়। এই জায়গাটাই হল দারিংবাড়ির অঘোষিত সানরাইজ পয়েন্ট।... আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ২ / দারিংবাড়ির প্রেমে

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ২ / দারিংবাড়ির প্রেমে
ইকো হোম থেকে শম্ভু সেন: দুপুরের খাওয়াটা বেশ জম্পেশ হল। অনিলবাবু আপশোশ করছিলেন মাছ খাওয়াতে পারছেন না বলে। এই দারিংবাড়িতে মাছ জোগাড় করা ততটাই দুষ্কর যতটা দুষ্কর ডুমুরের ফুল জোগাড় করা। তাই শেষ চেষ্টা করেছিলেন দিব্যকে দিয়ে মাছ জোগাড় করার। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টায় আসকার বাজারে মাছ পাওয়া যাবে, সেখানকার মৎস্যাসক্তির এমন খ্যাতি আছে বলে আমার অন্তত জানা নেই। আমিষ... আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ১/ দারিংবাড়ির পথে

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ১/ দারিংবাড়ির পথে
শম্ভু সেন: দার্জলিং অটো স্ট্যান্ড — চৌমাথায় এক কোণায় একটা সাইনবোর্ডে জ্বল জ্বল করছে। বাহ! এ যে দেখি একই আধারে দার্জিলিং আর কাশ্মীর। অটো স্ট্যান্ডের সাইনবোর্ডে লেখা দার্জলিং আর লোকের মুখে আদরের ডাকনাম কাশ্মীর –- ওড়িশার কাশ্মীর। কোথাও যাওয়ার আগে সবাই মনে মনে একটা ছবি আঁকে সেই জায়গার। আমিও এঁকেছিলাম। বলতে দ্বিধা নেই, ছবিটা মিলল না। ভেবেছিলাম খুশবেড়ানোওয়ালাদের মহলে একটু... আরও পড়ুন

অনেক তিতির কান্নার মাঠ পেরিয়ে — ভোরম দেও মন্দির/২

অনেক তিতির কান্নার মাঠ পেরিয়ে — ভোরম দেও মন্দির/২
মৈত্রী মজুমদার সকাল সকাল রওনা হয়েছিলাম মান্দলা টাউন ছেড়ে। উদ্দেশ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভোরম দেও মন্দির পৌঁছনো। ভোরম দেও মন্দিরকে মিনি খাজুরাহ বলা হয় স্থানীয় ভাবে। একথা শোনার পর থেকেই মনের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছিল। কিন্তু ১২এ জাতীয় সড়ক ধরে অল্প এগোনোর পর থেকেই সেই একই নেশার ঘোর লাগল চোখে। চারদিকে জঙ্গলের আবহ, সারি সারি পর্ণমোচী গাছের মাথায়... আরও পড়ুন

অনেক তিতির কান্নার মাঠ পেরিয়ে …. ভোরম দেও মন্দির/১

অনেক তিতির কান্নার মাঠ পেরিয়ে …. ভোরম দেও মন্দির/১
মৈত্রী মজুমদার ……“জঙ্গলের গভীরের যে কোনও গ্রাম পরিত্যক্ত হলেই, জঙ্গল তার পাইক- বরকন্দাজদের সঙ্গে সঙ্গেই পাঠিয়ে দিয়ে, পুরনো দিনের অত্যাচারী জমিদারদের মতো, গ্রামের জবর দখল নিয়ে মিশিয়ে দেয় তার জঙ্গলের খাসমহলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে। তাই গ্রামটিকে পরে আর চেনা পর্যন্ত যায় না । প্রকৃতি তার সবুজ, হলুদ, লাল, কালো নানারঙা নিশান উড়িয়ে দেয় আকাশে আকাশে, বহুবর্ণ গালচে বিছিয়ে দেয় জমিতে,... আরও পড়ুন

সহ্যাদ্রী পাহাড়ের কোলে

সহ্যাদ্রী পাহাড়ের কোলে
শ্রয়ণ সেন সাত বছর আগের সঙ্গে কিছুতেই ছবিটা মেলাতে পারছিলাম না। জায়গাটা যে এত বিশাল সেটা ধারণাই হয়নি তখন। অবশ্য তখন জায়গাটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় হওয়ার থেকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রকৃতি। প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া আর কুয়াশা আমাদের গাড়ি থেকে নামতেই দেয়নি। এ বার অবশ্য সে রকম কোনো বাধা নেই। হেঁটে চলেছি। যতদূর চোখ যায় দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। প্রকৃতির কী... আরও পড়ুন

অম্বি নদীর তীরে পানশেট

অম্বি নদীর তীরে পানশেট
পানশেট ড্যাম। পিছনেই পাহাড়ের সারি।  শ্রয়ণ সেন জায়গাটার নাম পানশেট। ভারত কেন, পুনে আর কিছুটা মুম্বইয়ের বাইরে গোটা মহারাষ্ট্রের কাছে এই জায়গাটার বিশেষ কোনো পরিচিতি নেই। অথচ নীরবে, নিভৃতে, নিরিবিলিতে কয়েক রাত কাটানোর জন্য পানশেটের জুড়ি মেলা ভার। ১৯৬১ সালে একটি কুখ্যাত ঘটনার জন্য গোটা ভারতের কাছেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিল পানশেট। অম্বি নদীর ওপর সেই বছরই তৈরি হয় এখানকার বাঁধটি।... আরও পড়ুন

কুকুছিনার কাহিনি : জীবন্ত মহাকাব্য

কুকুছিনার কাহিনি : জীবন্ত মহাকাব্য
সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারাহাট থেকে আট কিলোমিটার দূরে ধুধৌলিতে একটি সরকারি অতিথিশালা একা একা দাঁড়িয়ে আছে পুজো-না-পাওয়া কার্তিক ঠাকুরের মতো মুখ ম্লান করে। এই নিঃসঙ্গ অতিথিনিবাসে এক দিন বাতি জ্বালালে মন্দ হয় না। কুকুছিনা থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে দুনা গিরিমাতার মন্দির। রাস্তা থেকে অনেক উঁচুতে, প্রায় পাঁচশো সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হবে। দুনা গিরিমার মাহাত্ম্য এখানকার যে কোনো মানুষের কথায় ও... আরও পড়ুন

কুকুছিনার কাহিনি : গাড়ি ছোটো, ‘দিল’ বড়ো

কুকুছিনার কাহিনি : গাড়ি ছোটো, ‘দিল’ বড়ো
সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় পাণ্ডবদের তখন অজ্ঞাতবাস চলছে, তাঁদের খুঁজে বার করতে চতুর্দিকে ছুটে বেড়াচ্ছে কৌরব সেনার দল। আজকের উত্তরাখণ্ডের যে গ্রামে পাণ্ডবদের অবস্থানের শেষ খবর পাওয়া গিয়েছিল সেখানেও ধাওয়া করেছিল কৌরবরা। কিন্তু ওই ধাওয়া করে যাওয়াই সার, কোথায় কী? পথ এসে শেষ এই গ্রামে, এর পর শুধু দুর্গম পাহাড় আর গভীর অরণ্য। রহস্যমাখা প্রকৃতির বুকে আত্মগোপন করল পাণ্ডবরা, ছাউনি বানিয়ে বসে... আরও পড়ুন

লাখুদিয়ার গুহা : বিরল ইতিহাসের সাক্ষী

লাখুদিয়ার গুহা : বিরল ইতিহাসের সাক্ষী
মৌ মুখোপাধ্যায় পুজোর ছুটি পড়তেই বেরিয়ে পড়লাম কুমায়ুনের পথে। ভোর সওয়া ৫টায় যখন কাঠগুদাম স্টেশনে নামলাম তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। স্টেশনের বাইরে বেরোতেই চোখে পড়ল সারিবদ্ধ পাহাড়, যেন কোনো ভূমিকা ছাড়াই স্বমহিমায় বিরাজমান। তখনও জানতাম না আরও একটি বিস্ময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। হিমালয়কে সঙ্গী করে আমরা একে একে ঘুরে নিয়েছিলাম রানিখেত, কৌশানি, মুন্সিয়ারি, পাতাল ভুবনেশ্বর। এর পর আমরা আলমোড়া... আরও পড়ুন