khabor online most powerful bengali news

জার্মান দেশে ২ / থাকল ব্রেমেন-এর স্মৃতি

ব্রেমেন-এর শ্নুর দেবোপম ঘোষ ব্রেমেনের দ্বিতীয় সকালটা ছিল তুলনামূলক ভাবে বেশি ঠান্ডা, ৬-৭ ডিগ্রির কাছাকাছি। তার সঙ্গে এক নাগাড়ে ঠান্ডা হাওয়া। দুয়ে মিলে ঘরের বাইরে বেরোনো কঠিন। কিন্তু প্রথম দিন এত ঘোরার পর দ্বিতীয় দিনটা ঘরে বসে কাটিয়ে দেব, এটা ঠিক মানতে পারলাম না। তাই শান্ত জনমানবহীন রবিবারের সকালে বেরিয়ে পড়লাম। শহর ঘুরে দেখার ভালো উপায় হল হাঁটা। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম শহরের মাঝখানে ‘ডোমস্‌হাউস’ বা সিটি সেন্টারে। মোবাইলে মানচিত্র দেখে এখানে পৌঁছোতে লাগল প্রায় আধ ঘণ্টা। তবে সিটি সেন্টার সম্পর্কে বলার আগে এখানকার ফুটবল স্টেডিয়াম সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছিলাম ভেসার নদীর ধারে। নদীর ওপর সাঁকোতে…

আরও পড়ুন

জার্মান দেশে ১/ ভেসার-এর ধারে ব্রেমেন

দেবোপম ঘোষ “হার্জলিষ ভিলকমেন ইন ডয়েচলান্ড” – ব্রেমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিসা অফিসার আমাকে জার্মানিতে স্বাগত জানিয়ে আমার হাতে পাসপোর্টটা ফেরত দিলেন। নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই ব্রেমেন শহরের সৌন্দর্য আমার চোখে ধরা দিল। মাসটা ছিল অক্টোবর, কলকাতার নিরিখে বেশ ঠান্ডা। থার্মোমিটারের পারদ বলছে ৮ ডিগ্রি। থাকার জায়গাটা ঠিক করে এসেছি। তাই একটু নিশ্চিন্ত। কারণ বহু আশ্রয়প্রার্থী অর্থাৎ ‘রিফিউজি’ জার্মানিতে আসার ফলে এখানে ঘর পাওয়া একটা সমস্যা। আশ্রয়স্থলে যাওয়ার উপায় খুঁজতে খুঁজতে ট্রামের দেখা পেলাম। জার্মানির প্রতিটি শহরে কলকাতার মতো ট্রাম চলে। ট্রামগুলো সাধারণত চার কামরার এবং প্রত্যেকটার গায়ে বিজ্ঞাপন। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে একটা ট্রামে উঠে পড়লাম। ট্রামে করে যাওয়ার…

আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাসে ৪/ দারিংবাড়ি বিদায়

শম্ভু সেন: চন্দ্র গুছিয়েই খাওয়াল। কিন্তু আজ আমাদের তর সইছে না। ইকো হোমে ঘরের সামনে বসানো আরামকেদারাটা রোদে মাখামাখি হয়ে আমাকে ডাকছে। জানি, ডাকে সাড়া দিয়ে যদি একটু আয়েস করি, তা হলে দু’ চোখের পাতা এক হয়ে যাবে। কিন্তু উপায় নেই। টুরিস্টি ভাষায় যাকে বলে স্পট, তারই কিছু দেখা এখনও বাকি যে। দারিংবাড়িকে চেনা এখনও তো সম্পূর্ণ হয়নি। তাই মনে মনে ‘আরাম হারাম হ্যায়’ আওড়ে আবার রওনা। পৌনে চারটেয় আবার যাত্রা। ইকো হোমের রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে এসে জাতীয় সড়কে পড়ে এ বার বাঁ দিকে ছুট। চৌমাথায় এসে সোজা এগিয়ে চলা। কয়েকশো মিটার পর্যন্ত দারিংবাড়ির ঘরসংসার। তার পর দু’ পাশের গাছগাছালি…

আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ৩ / দারিংবাড়ি ছাড়িয়ে

শম্ভু সেন : দিনে মালুম হয়নি ততটা। রাতে ঠান্ডা পড়েছিল ভালোই। তাই লেপের মায়া কাটাতে বেশ সময় লাগল। ততক্ষণে সূর্য ঘরবসত জমিয়ে বসেছে। আজ আর তার উদয় দেখা হল না। এই ইকো হোম থেকে সূর্য একটু আড়ালে পড়ে। তাই গেট থেকে বেরিয়ে ঢাল বেয়ে কয়েক পা নেমে এসে পরিত্যক্ত পান্থশালার সামনে আসতে হয়। এই জায়গাটাই হল দারিংবাড়ির অঘোষিত সানরাইজ পয়েন্ট। বলতে ভুলেই গেছি। এই দারিংবাড়িতে ছিল ওড়িশা পর্যটনের পান্থশালা। ২০০৩ সালের ২৪ জানুয়ারি এই পান্থশালার উদবোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। শেষ পর্যন্ত দু’ বছর চলে তা বন্ধ হয়ে যায়। অজুহাত, মাওবাদী কার্যকলাপ। অথচ এই তথাকথিত ‘মাওবাদী কার্যকলাপের’ মাঝেই চালু হয়েছে…

আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ২ / দারিংবাড়ির প্রেমে

ইকো হোম থেকে শম্ভু সেন: দুপুরের খাওয়াটা বেশ জম্পেশ হল। অনিলবাবু আপশোশ করছিলেন মাছ খাওয়াতে পারছেন না বলে। এই দারিংবাড়িতে মাছ জোগাড় করা ততটাই দুষ্কর যতটা দুষ্কর ডুমুরের ফুল জোগাড় করা। তাই শেষ চেষ্টা করেছিলেন দিব্যকে দিয়ে মাছ জোগাড় করার। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টায় আসকার বাজারে মাছ পাওয়া যাবে, সেখানকার মৎস্যাসক্তির এমন খ্যাতি আছে বলে আমার অন্তত জানা নেই। আমিষ তো হল না। কিন্তু চন্দ্র যা নিরামিষ আহার করাল তাতে তো আমরা ফিদা -– সরু চালের গরম ঝরঝরে ভাত, পিঁয়াজ-সহ মশুর ডাল, আলুপোস্ত, ফুলকপির তরকারি, দু’ রকম ভাজা এবং শেষ পাতে চাটনি। পদের সংখ্যায় নয়, চন্দ্রের রান্নার হাতেই আমরা কাত।   …

আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ১/ দারিংবাড়ির পথে

শম্ভু সেন: দার্জলিং অটো স্ট্যান্ড — চৌমাথায় এক কোণায় একটা সাইনবোর্ডে জ্বল জ্বল করছে। বাহ! এ যে দেখি একই আধারে দার্জিলিং আর কাশ্মীর। অটো স্ট্যান্ডের সাইনবোর্ডে লেখা দার্জলিং আর লোকের মুখে আদরের ডাকনাম কাশ্মীর –- ওড়িশার কাশ্মীর। কোথাও যাওয়ার আগে সবাই মনে মনে একটা ছবি আঁকে সেই জায়গার। আমিও এঁকেছিলাম। বলতে দ্বিধা নেই, ছবিটা মিলল না। ভেবেছিলাম খুশবেড়ানোওয়ালাদের মহলে একটু একটু করে পরিচিত হয়ে উঠলেও এখনও খুব একটা জমজমাট নয় সে, বরং  অজই। ভুল ভাঙল চৌমাথায় এসে। গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। আমার ডান দিকে সেই রাস্তা, যে রাস্তা ডিঙিয়ে পৌঁছেছি এখানে। এই রাস্তাতেই বাজার, দোকানপাট, এক-আধটা খাওয়ার জায়গা। আর হ্যাঁ,…

আরও পড়ুন

অনেক তিতির কান্নার মাঠ পেরিয়ে — ভোরম দেও মন্দির/২

মৈত্রী মজুমদার সকাল সকাল রওনা হয়েছিলাম মান্দলা টাউন ছেড়ে। উদ্দেশ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভোরম দেও মন্দির পৌঁছনো। ভোরম দেও মন্দিরকে মিনি খাজুরাহ বলা হয় স্থানীয় ভাবে। একথা শোনার পর থেকেই মনের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছিল। কিন্তু ১২এ জাতীয় সড়ক ধরে অল্প এগোনোর পর থেকেই সেই একই নেশার ঘোর লাগল চোখে। চারদিকে জঙ্গলের আবহ, সারি সারি পর্ণমোচী গাছের মাথায় লাল, হলুদ, সবুজ, কালো, নীল রঙের মেলা আর মাঝে মাঝে সবুজ গালচের মতো বিষণ্ণতার আচ্ছাদনে ঢাকা, তিতির কান্নার মাঠ। যার অতলস্পর্শী রহস্যময়তার মাঝে দাঁড়িয়ে ঠুঠাবাইগা আজও খুঁজে ফেরে তার ছেলেবেলায় হারানো বনময়ূরী গ্রামকে। মাঝে মাঝে গোন্দ-বাইগাদের দশবারো ঘরের গ্রাম, অদ্ভুত…

আরও পড়ুন

অনেক তিতির কান্নার মাঠ পেরিয়ে …. ভোরম দেও মন্দির/১

মৈত্রী মজুমদার ……“জঙ্গলের গভীরের যে কোনও গ্রাম পরিত্যক্ত হলেই, জঙ্গল তার পাইক- বরকন্দাজদের সঙ্গে সঙ্গেই পাঠিয়ে দিয়ে, পুরনো দিনের অত্যাচারী জমিদারদের মতো, গ্রামের জবর দখল নিয়ে মিশিয়ে দেয় তার জঙ্গলের খাসমহলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে। তাই গ্রামটিকে পরে আর চেনা পর্যন্ত যায় না । প্রকৃতি তার সবুজ, হলুদ, লাল, কালো নানারঙা নিশান উড়িয়ে দেয় আকাশে আকাশে, বহুবর্ণ গালচে বিছিয়ে দেয় জমিতে, উজ্জ্বল অগণিত স্পন্দিত তারা আর জোনাকির ঝাড়লন্ঠন ঝুলিয়ে দেয় আকাশের চাঁদোয়ার নিচে; অন্ধকার রাতে। জঙ্গলের মধ্যে জঙ্গল, গাছের মধ্যে গাছ, পাতার মধ্যে পাতা, ফুলের মধ্যে ফুল, স্মৃতির মধ্যে স্মৃতি সেঁধিয়ে যায়। চেনবার জো-টি পর্যন্ত থাকে না আর”।…… জঙ্গলের আবহ চারপাশে।…

আরও পড়ুন

সহ্যাদ্রী পাহাড়ের কোলে

শ্রয়ণ সেন সাত বছর আগের সঙ্গে কিছুতেই ছবিটা মেলাতে পারছিলাম না। জায়গাটা যে এত বিশাল সেটা ধারণাই হয়নি তখন। অবশ্য তখন জায়গাটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় হওয়ার থেকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রকৃতি। প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া আর কুয়াশা আমাদের গাড়ি থেকে নামতেই দেয়নি। এ বার অবশ্য সে রকম কোনো বাধা নেই। হেঁটে চলেছি। যতদূর চোখ যায় দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। প্রকৃতির কী অদ্ভুত খেল। সমুদ্রতল থেকে সাড়ে ৪ হাজার ফুট ওপরে এত বিশাল মাঠ ভাবা যায় না, পঞ্চগণির টেবলল্যান্ডে। সহ্যাদ্রী পাহাড়ে মহারাষ্ট্রের দুই যমজ শৈল শহর পঞ্চগণি আর মহাবালেশ্বর। সাত বছর আগে এখানে পা পড়েছিল আমাদের। তিন দিন থাকলেও বৃষ্টির প্রভাবে প্রায়…

আরও পড়ুন

অম্বি নদীর তীরে পানশেট

পানশেট ড্যাম। পিছনেই পাহাড়ের সারি।  শ্রয়ণ সেন জায়গাটার নাম পানশেট। ভারত কেন, পুনে আর কিছুটা মুম্বইয়ের বাইরে গোটা মহারাষ্ট্রের কাছে এই জায়গাটার বিশেষ কোনো পরিচিতি নেই। অথচ নীরবে, নিভৃতে, নিরিবিলিতে কয়েক রাত কাটানোর জন্য পানশেটের জুড়ি মেলা ভার। ১৯৬১ সালে একটি কুখ্যাত ঘটনার জন্য গোটা ভারতের কাছেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিল পানশেট। অম্বি নদীর ওপর সেই বছরই তৈরি হয় এখানকার বাঁধটি। যেটি পানশেট ড্যাম হিসেবে পরিচিত। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি আর সঠিক পর্যবেক্ষণের অভাবে ভেঙে যায় এই ড্যাম। ভেসে যায় গোটা পুনে শহর। মৃত্যু হয় প্রায় হাজার জনের। আজ সে সব অতীত। গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর গ্রাসে বৃষ্টিও কমে গিয়েছে অনেক। কিন্তু পুনের কাছে এর…

আরও পড়ুন