khabor online most powerful bengali news

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৯/ ঝান্ডির আঙিনায়

শ্রয়ণ সেন: পাশের কটেজের ছোট্টো একটা হট্টগোলে ঘুমটা গেল ভেঙে। ঘড়িতে তখন সাড়ে চারটে, ভোর নয়, বিকেল। আসলে বরেলি মাছ সহযোগে গরম ভাত। দুপুরের খাওয়াটা বেশ জম্পেশ হয়েছিল। বরেলি উত্তরবঙ্গের মাছ, এই তথ্যটা জানা ছিল। কিন্তু এ বার ভ্রমণ শুরুর থেকে এক দিনও সেই মাছ চেখে দেখার সুযোগ হয়নি। সুযোগটা এসে গেল এখানে এসেই। দুর্দান্ত রেঁধেও ছিলেন এখানকার রাঁধুনি। এরই প্রভাবই লম্বা ভাতঘুম, যার ফলে অসাধারণ একটা মুহূর্ত থেকে বঞ্চিতই হয়ে যেতাম হয়তো। যাই হোক, তড়িঘড়ি বিছানা থেকে উঠে ব্যালকনিতে এলাম। সামনে সুবিশাল, শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। বিকেলের পড়ন্ত রোদের লাল আভা তার গায়ে। সেই লাল আভা দিয়েই দিনের মতো পাততাড়ি গোটালেন…

আরও পড়ুন

জার্মান দেশে ২ / থাকল ব্রেমেন-এর স্মৃতি

ব্রেমেন-এর শ্নুর দেবোপম ঘোষ ব্রেমেনের দ্বিতীয় সকালটা ছিল তুলনামূলক ভাবে বেশি ঠান্ডা, ৬-৭ ডিগ্রির কাছাকাছি। তার সঙ্গে এক নাগাড়ে ঠান্ডা হাওয়া। দুয়ে মিলে ঘরের বাইরে বেরোনো কঠিন। কিন্তু প্রথম দিন এত ঘোরার পর দ্বিতীয় দিনটা ঘরে বসে কাটিয়ে দেব, এটা ঠিক মানতে পারলাম না। তাই শান্ত জনমানবহীন রবিবারের সকালে বেরিয়ে পড়লাম। শহর ঘুরে দেখার ভালো উপায় হল হাঁটা। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম শহরের মাঝখানে ‘ডোমস্‌হাউস’ বা সিটি সেন্টারে। মোবাইলে মানচিত্র দেখে এখানে পৌঁছোতে লাগল প্রায় আধ ঘণ্টা। তবে সিটি সেন্টার সম্পর্কে বলার আগে এখানকার ফুটবল স্টেডিয়াম সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছিলাম ভেসার নদীর ধারে। নদীর ওপর সাঁকোতে…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৮/ সঙ্গী জলঢাকা

শ্রয়ণ সেন: মূর্তি নদীর মাঝে রকি আইল্যান্ডে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আবার পথ চলা শুরু। জলঢাকাকে এ বার সঙ্গী করতে হবে। সামসিং নেমে এসে, বাঁ দিকের রাস্তা ধরলাম। এ পথের সৌন্দর্য বলে বোঝানোর ভাষা আমার নেই। দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগানের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে আমাদের বোলেরো। পাহাড় আবার কিছুটা দূরে সরে গিয়েছে। চা বাগানের মধ্যে দিয়ে কিলোমিটার দশেক যেতে এসে পড়ল মৌরে গ্রাম। তিন রাস্তার সংযোগস্থলে এই গ্রামটি। ডান দিকের রাস্তাটি চলে যাচ্ছে চালসার কাছে খুনিয়া মোড়। আমরা এগিয়ে চললাম সামনের দিকে। ফের শুরু হয় গেল পাহাড়ি পথ। রবার গাছের সারি আমাদের স্বাগত জানাল। গৈরিবাসে পেয়ে গেলাম জলঢাকাকে। ঝালং-বিন্দুর পথে প্রথম…

আরও পড়ুন

জার্মান দেশে ১/ ভেসার-এর ধারে ব্রেমেন

দেবোপম ঘোষ “হার্জলিষ ভিলকমেন ইন ডয়েচলান্ড” – ব্রেমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিসা অফিসার আমাকে জার্মানিতে স্বাগত জানিয়ে আমার হাতে পাসপোর্টটা ফেরত দিলেন। নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই ব্রেমেন শহরের সৌন্দর্য আমার চোখে ধরা দিল। মাসটা ছিল অক্টোবর, কলকাতার নিরিখে বেশ ঠান্ডা। থার্মোমিটারের পারদ বলছে ৮ ডিগ্রি। থাকার জায়গাটা ঠিক করে এসেছি। তাই একটু নিশ্চিন্ত। কারণ বহু আশ্রয়প্রার্থী অর্থাৎ ‘রিফিউজি’ জার্মানিতে আসার ফলে এখানে ঘর পাওয়া একটা সমস্যা। আশ্রয়স্থলে যাওয়ার উপায় খুঁজতে খুঁজতে ট্রামের দেখা পেলাম। জার্মানির প্রতিটি শহরে কলকাতার মতো ট্রাম চলে। ট্রামগুলো সাধারণত চার কামরার এবং প্রত্যেকটার গায়ে বিজ্ঞাপন। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে একটা ট্রামে উঠে পড়লাম। ট্রামে করে যাওয়ার…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৭/ সামসিং, সান্তালেখোলা হয়ে রকি আইল্যান্ড

মূর্তি নদী, রকি আইল্যান্ড শ্রয়ণ সেন ‘রকি আইল্যান্ড’ — মানে পাথুরে দ্বীপ। নামটা শুনে প্রথমে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। দ্বীপ তো প্রধানত সমুদ্রেই হয়। নদী-দ্বীপ বলতে জানি অসমের মাজুলি। ব্রহ্মপুত্রের বুকে বিশাল দ্বীপ এই মাজুলি। কিন্তু উত্তরবঙ্গের ছোটো নদীতে দ্বীপ কী ভাবে হবে? এই কৌতূহলকে সঙ্গী করেই বেরিয়ে পড়েছি, এক দিনের ট্যুরে। গন্তব্য সামসিং হয়ে সান্তালেখোলা, এবং রকি আইল্যান্ড। চালসা থেকে এগিয়ে চলেছি সামসিং-এর দিকে। মালবাজারের দিক থেকে এলে চালসা মোড় থেকে বাঁ দিকে মেটেলির পথ। সে দিকে ঘুরতে হয়। মেটেলি পেরোতেই বদলে গেল প্রাকৃতিক চরিত্র। রাস্তার দু’ধারে চা-বাগান। দু’টি পাতা-একটি কুঁড়ি তুলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। সামসিং পৌঁছোতেই হঠাৎ করে কাছে চলে…

আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাসে ৪/ দারিংবাড়ি বিদায়

শম্ভু সেন: চন্দ্র গুছিয়েই খাওয়াল। কিন্তু আজ আমাদের তর সইছে না। ইকো হোমে ঘরের সামনে বসানো আরামকেদারাটা রোদে মাখামাখি হয়ে আমাকে ডাকছে। জানি, ডাকে সাড়া দিয়ে যদি একটু আয়েস করি, তা হলে দু’ চোখের পাতা এক হয়ে যাবে। কিন্তু উপায় নেই। টুরিস্টি ভাষায় যাকে বলে স্পট, তারই কিছু দেখা এখনও বাকি যে। দারিংবাড়িকে চেনা এখনও তো সম্পূর্ণ হয়নি। তাই মনে মনে ‘আরাম হারাম হ্যায়’ আওড়ে আবার রওনা। পৌনে চারটেয় আবার যাত্রা। ইকো হোমের রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে এসে জাতীয় সড়কে পড়ে এ বার বাঁ দিকে ছুট। চৌমাথায় এসে সোজা এগিয়ে চলা। কয়েকশো মিটার পর্যন্ত দারিংবাড়ির ঘরসংসার। তার পর দু’ পাশের গাছগাছালি…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৬/ মূর্তির ধারে

শ্রয়ণ সেন: আলাপ হয়েছিল সুনীতার সঙ্গে। নদীর ধারে ছোট্টো ঝিটেবেড়ার দোকান এই নেপালি তরুণীর। রয়েছে চা-কফি-চাউমিন-মোমোর ব্যবস্থা। শাশুড়ি-মেয়েকে নিয়ে চালসায় থাকে সুনীতা। স্বামী কর্মসূত্রে আছে জলপাইগুড়িতে। সুনীতা রোজ এগারোটা নাগাদ চলে আসে এখানে। বিকেলের দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। রাত আটটায় দোকান গুটিয়ে ফিরে যায় বাড়ি। পাঁচ দিন হল উত্তরবঙ্গে এসেছি, কোনো বিশ্রামের সুযোগ পাইনি সেই অর্থে। হয় হোটেলে চেকইন করেই ছুটতে হয়েছে জঙ্গল সাফারির জন্য। কখনও বা হোটেলে ঢুকেছি এক্কেবারে সন্ধে নাগাদ। এমন কোনো জায়গায় কি যাওয়া যায়, যেখানে গিয়ে শুধু বিশ্রামেই কাটিয়ে দেওয়া যাবে একটা দিন। তখনই নজরে এল মূর্তি। বক্সা-জয়ন্তি, জলদাপাড়া, গরুমারার কাছে যেন কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে মূর্তি।…

আরও পড়ুন

অফ-সিজনে পর্যটক টানতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের

কলকাতা:  পর্যটকদের স্বার্থে গত কয়েক বছরে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেছে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন বিভাগ। তৈরি হয়েছে নতুন কিছু পর্যটক আবাস। অন্য দিকে নব রূপে সজ্জিত হচ্ছে কিছু পুরোনো পর্যটক আবাস। কিন্তু এত কিছু করার পরেও অফ-সিজনের পর্যটক-শূন্যতা পর্যটন উন্নয়ন নিগমের লাভের অঙ্ক অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। এই সব মাথায় রেখেই অফ-সিজনে পর্যটক আবাসগুলিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে পর্যটন উন্নয়ন নিগম। উত্তরবঙ্গে বর্ষাকালটা অফ-সিজন হিসেবে গণ্য হয়। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের বাকি জেলাগুলির থেকে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। তাই খুব বেশি পর্যটক ও-দিকে পা মাড়ান না। এই বিষয়েই চিন্তিত শোনাচ্ছিল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষকে। জলপাইগুড়ি জেলার লাটাগুড়ি, মালবাজার…

আরও পড়ুন

তিন দিনের অজ্ঞাতবাস ৩ / দারিংবাড়ি ছাড়িয়ে

শম্ভু সেন : দিনে মালুম হয়নি ততটা। রাতে ঠান্ডা পড়েছিল ভালোই। তাই লেপের মায়া কাটাতে বেশ সময় লাগল। ততক্ষণে সূর্য ঘরবসত জমিয়ে বসেছে। আজ আর তার উদয় দেখা হল না। এই ইকো হোম থেকে সূর্য একটু আড়ালে পড়ে। তাই গেট থেকে বেরিয়ে ঢাল বেয়ে কয়েক পা নেমে এসে পরিত্যক্ত পান্থশালার সামনে আসতে হয়। এই জায়গাটাই হল দারিংবাড়ির অঘোষিত সানরাইজ পয়েন্ট। বলতে ভুলেই গেছি। এই দারিংবাড়িতে ছিল ওড়িশা পর্যটনের পান্থশালা। ২০০৩ সালের ২৪ জানুয়ারি এই পান্থশালার উদবোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। শেষ পর্যন্ত দু’ বছর চলে তা বন্ধ হয়ে যায়। অজুহাত, মাওবাদী কার্যকলাপ। অথচ এই তথাকথিত ‘মাওবাদী কার্যকলাপের’ মাঝেই চালু হয়েছে…

আরও পড়ুন

উত্তরবঙ্গের ডায়েরি ৫/ জল্পেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

জল্পেশ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে এক চিলতে কাঞ্চনজঙ্ঘা  শ্রয়ণ সেন: “এই থামো থামো থামো…” আমার আকস্মিক নির্দেশে জোরে ব্রেক কষল সারথি। তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। আমাকে দেখে বাকিরাও নামল। কিন্তু তখনও জানে না কী ব্যাপার। —“কী রে নামলি কেন?” —“আরে ওই দিকে তাকাও। ওকে দেখা যাচ্ছে।” দূরের পাহাড়ে হালকা মেঘের ওপর থেকে উঁকি মারছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। উত্তরবঙ্গ সফরে এই প্রথম দেখা পেলাম তার। লাটাগুড়ি থেকে জল্পেশ মন্দির যাচ্ছি। দক্ষিণমুখো রাস্তা। কিন্তু আমার নজর মাঝেমধ্যেই পড়ছে উত্তর দিকে। ও দিকেই তো পাহাড়। শুনেছি আকাশ পরিষ্কার থাকলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ সমতল এলাকা থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। বর্ষা বিদায় নিয়েছে কিছু দিন হল। গত কয়েক…

আরও পড়ুন