khabor online most powerful bengali news

অন্দরসজ্জা: বল তো আরশি

মৈত্রী মজুমদার ‘বল তো আরশি তুমি মুখটি দেখে…’, মনে পড়ছে গানটা? শুধু এই গানটাই বা বলি কেন, বাংলা সাহিত্যে, গানে কবিতায় আরশি বা আয়না তো নানা রূপে ধরা পড়েছে। মনে পড়ে সেই গল্পটা যেখানে এক গৃহস্থ পরিবারের লোকেরা যাযাবরদের কাছে প্রথমবার আয়না দেখে নিজেদের প্রতিবিম্বকে অন্য মানুষ বলে ভেবেছিল? অথবা সেই যে রাজার সুয়োরানি, তুষারশুভ্রার সৎমা, যে মায়াদর্পণের কাছে বারবার জানতে চাইতো “এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দরী কে?” এরকম কত যে কাহিনি আছে! সত্যি আয়নার আবিষ্কার না হলে মানব সভ্যতার ইতিহাস যে ঠিক কোন খাতে বইতো, তা বলা মুশকিল। তবে আমাদের কাছে যখন আয়না আছে তখন আমরা বরং তার বিচিত্র ব্যবহার…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা: যদি ‘রঙ’ দিলে না প্রাণে

মৈত্রী মজুমদার “মনে কর আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে/ কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে…” বিবিধভারতীতে সুমন কল্যানপুরের গাওয়া সেই কবেকার এই গানটা শুনতেসন্ শুনতে হঠাৎ মনে হল সত্যি তো কত কত বত আমরা পার করে ফেলি এই ইঁট কাঠ কংক্রিটে ঠাসা শহরটার অলিতে গলিতে যন্ত্রের মতো ঘুরতে ঘুরতে। কিন্তু তার গোলকধাঁধারও যে রঙ পালটায় তার হদিস করার সময় কি পাই? এই যে গলির মাথার পার্কে বড় হয়ে ওঠা মন্দার, রাধচূড়া, কৃষ্ণচূড়ায় লালহলুদের মেলা বসতে চলেছে; ওই যে সেদিন দুপুরের উষ্ণ পরশের মাঝে দুকলি কোকিলের ডাক শোনা গেল আর গতকাল অফিসফেরতা গলদঘর্ম হয়ে বাস থেকে নামতেই দখিনা বাতাসের মিষ্টি একটা ঝলক…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা: বাচ্চাদের ঘর

মৈত্রী মজুমদার সে একদিন ছিল যখন পাঠশালা ফাঁকি দিয়ে অপুরা একছুটে চলে যেতে পারত মাঠে বা আমবাগানে আবার সেখান থেকে দুর্গাদিদির হাত ধরে দৌড়তে দৌড়তে মাঠঘাট, বনবাদাড়, কাশফুলের জঙ্গল পার হয়ে যেত রেলগাড়ি দেখার আশায়।  আজ  আর  সেদিন নেই। পাঠশালা  পলায়ন  তো দূরস্থান, পৃথিবীর আলো  দেখার পর আঠারো মাস কাটতে না কাটতেই পিঠে ব্যাগ আর জলের বোতল নিয়ে আজকের অপু-দুর্গা দের যেতে হয় প্লে স্কুলে। আর প্রকৃতির অপার রহস্যের সন্ধান এবং সমাধান দুটোই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বই আর ইন্টারনেট-এর ওপর। সে যাই হোক, ‘যস্মিন কালে যদাচার…’ । এসব কথা বলার আসল কারণ হল, এমতাবস্থায় বাচ্চা মানুষ করার ক্ষেত্রে বাড়িতে বাচ্চাদের…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা: পড়ার ঘর বা হোম অফিস

মৈত্রী মজুমদার শীত প্রায় শেষের মুখে, ইংরাজি নববর্ষও  কিছুটা পুরোনো ঘটনা এই মুহূর্তে। সব ধরনের উৎসব তাই এখন যাইযাই রব ধরেছে। হাতে বাকি বলতে শুধু সরস্বতী পূজা। নাহ!শুধু তাই বললে কি হবে? কলকাতা বইমেলা, সেও কি কম  উৎসব  হল বাঙালির কাছে ? শেষ শীতের রোদে গা মজিয়ে, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে, অথবা সরস্বতী পুজোর দিন স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম শাড়ি বা নতুন পাঞ্জাবি পরার মাদকতা নিয়ে বইমেলায় ঘুরে বেড়ানো। সে যে না গেছে তাকে বোঝান, ও স্বয়ং ব্রহ্মারও সাধ্য নেই।  কিন্তু শুধু উৎসবে মাতলেই কি হবে ? মা সরস্বতীর হাত ধরে যে বচ্ছরকার   পরীক্ষাগুলো একে একে এসে হাজির হবে, তাদের…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা: থিংক গ্রিন…লিভ গ্রিন/‍২

 মৈত্রী মজুমদার কী বন্ধুরা, আপনার বাগানের কাজ ঠিকঠাক এগোচ্ছে নিশ্চয়?  আমরা কিন্তু  কথামতো ফিরে এসেছি আপনাকে বাগান সাজানোর কাজে সাহায্য করতে। গাছ লাগানোর জায়গা আর পাত্র তো হল। এ বার আসা যাক কী কী ধরনের গাছ আপনি লাগাতে পারেন আপনার বারান্দার বাগানে…। যে হেতু এখন শীতকাল তাই এই সময় মরশুমি ফুলই সব থেকে বেশি ভালো লাগবে। তাই গাঁদা, পিটুনিয়া, জিনিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, সূর্যমুখী — এই ধরনের ফুলের গাছ লাগান। এর সঙ্গে বারান্দার এক কোনায় দু-একটা লতানে গাছ যেমন বোগেনভেলিয়া, তরুলতা বা কুন্দ লাগাতে পারেন। এগুলো সারা বছর থাকার গাছ। তাই এই মরশুমেই ফুলের আশা করবেন না। কম কষ্টে বেশি ফল…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা: থিংক গ্রিন…লিভ গ্রিন/১

 মৈত্রী মজুমদার শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন আমলকির ওই ডালে ডালে…। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি, আমার বারান্দার ছোট্টো বাগানে সদ্য ফোটা দু’টো বাসন্তী গাঁদা ফুল তাদের ঝিরিঝিরি পাতাগুলোর সঙ্গে শিরশির করে কাঁপছে। সকালবেলার এই হালকা হিমেল হাওয়ায় কফির মগটা হাতে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই গানের কলিটাই বারবার মনে আসছে… তাই ভাবলাম আপনাদেরই জিজ্ঞেস করি, এই মরশুমে আপনাদের বাগানে কী কী ফুটল ? কী বললেন, এই শহুরে ছোটো ছোটো আস্তানায় বাগান করার জায়গা নেই? উঁহু তা বললে তো শুনছি না। আপনার যদি ইচ্ছা থাকে, তা হলে আমরা আছি উপায় বলার জন্য। ভাবছেন তো এই স্বল্প পরিসরে কোথায় জায়গা বাগান করার?…

আরও পড়ুন

অন্দর সজ্জা: ‘ওয়ার্ক হার্ড – পার্টি হার্ডার’

মৈত্রী মজুমদার দেখতে দেখতে বছর শেষ, আসছে আর একটা নতুন বছর। আর এটাই তো সময় জমিয়ে আনন্দ করার। কেউ যাবেন দূরে বেড়াতে, কেউ কেউ কাছাকাছি পিকনিক সেরে নেবেন আবার কেউ কেউ এই সুযোগে নিজের আত্মীয়-বন্ধু নিয়ে জমিয়ে আড্ডা আর খাওয়াদাওয়া করে শামিল হবেন উৎসবের আনন্দে। আসা-যাওয়া চলতে থাকুক নিজের তালে, আপনি এই ফাঁকে নিজের বাড়িটিকে সাজিয়ে তুলুন পার্টি মুডে। আমাকে অনেক পার্টিতে যেতে হবে। তাই চলুন তাড়াতাড়ি দেখে নিই কী ভাবে এই মরশুমে নিজের ঘরটি সাজিয়ে নেওয়া যায়। উৎসব মানেই রঙ, উৎসব মানেই আলো … যে কোনো জায়গাকে কম খরচে রঙিন করে তোলার সব চেয়ে সহজ উপায় হল রঙিন কাগজ।…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা: আলোর ঠিকানা ৩

মৈত্রী মজুমদার আধুনিক কালে অন্দর মহলের আলোক সজ্জায় মুড লাইটিং ব্যবহারের কথা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। আর এই মুড বা ইনডাইরেক্ট আলোকসজ্জা সবচেয়ে জরুরি হল শোয়ার ঘরে। কারণ এই জায়গাটিতেই দিনের শেষে এসে আপনি বিশ্রাম নেবেন। আবার অবসরে আড্ডা মারবেন বা প্রয়োজনে পড়াশোনা করবেন। এই ঘরটির আশেপাশেই অনেকটা সময় কেটে যায় আপনার। তাই এই ঘরের আলোক সজ্জায় একটু বেশিই যত্নশীল হওয়া উচিৎ। আপনার শোয়ার ঘর হওয়া উচিৎ আপনার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী এবং সেই ভিন্নতাটা আসবে আলোকসজ্জার ওপর ভিত্তি করে। শোয়ার ঘর যদি সাবেকি ধরনে সাজাতে চান, তাহলে এর পুরো এলাকায় সমান আলোক বণ্টনের দিকে নজর দিতে হবে। ফলসসিলিং থাকলে এই কাজটি…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা : আলোর ঠিকানা ২

মৈত্রী মজুমদার আলো যেমন আশার প্রতীক সেভাবেই মানুষের মনন বা মানসিকতার ওপরও আলোর প্রভাব সংশয়াতীত। তাই অন্দরসজ্জার সময় আলোর ব্যবহার, সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারিক দিকটি মাথায় রেখেও করা দরকার। সারাদিন বিভিন্ন কাজের মাঝে যতটা মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে আজকাল আমাদের যেতে হয় তাতে বাড়ি ফেরার পর আমাদের দরকার শান্তি আর স্বস্তির পরিবেশ। আর এই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে আলোর ভুমিকাই সবচেয়ে বেশি। তাই আধুনিক সময়ে বাড়িঘর সাজাতে আলোর ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে যে তথাকথিত সাদা আলোর টিউবলাইট, সিএফএল বা হলুদ আলোর সাধারণ বাল্ব ব্যবহার না করে, ইনডাইরেক্ট বা মুড লাইটিং ব্যবহার করাই শ্রেয়। আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম বাড়ির সদর দরজার…

আরও পড়ুন

অন্দরসজ্জা : আলোর ঠিকানা ১

মৈত্রী মজুমদার এ বছরের মতো পুজো শেষ, শেষ আলোর উৎসব দীপাবলিও। কিন্তু শেষ হলেও রয়ে গেছে তার রেশ। এটা অবশ্য নিয়ম করে প্রতি বছরই হয়। বা বলা ভালো, প্রকৃতির এটাই নিয়ম। বাংলা ক্যালেন্ডারে কার্তিক মাস। হেমন্তের হাতছানি গাছে গাছে। হাওয়ায় উত্তুরে হিমেল পরশ। শেষ রাতে হাল্কা চাদরের উষ্ণতা। আহা… বিছানা ছাড়তেই যেন আর মন চায় না। এ রকম দিনে সাঁঝের বেলায় দীপান্বিতার আলো, রোজ রোজ হলেই বা মন্দ কী? বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফির কাপটা হাতে নিয়ে তাই ভাবছিলাম। ছোটবেলায় দীপাবলির মোমবাতিগুলো যত নিভতে থাকত, তত মনটা খারাপ হতে থাকত। এ যেন পুজোর ছুটির মেয়াদ শেষের বার্তাবাহক। আবার একটা বছরের অপেক্ষার পালা।…

আরও পড়ুন