khabor online most powerful bengali news

ছ’শো দোকান নিয়ে পাথরপ্রতিমার গোবিন্দেশ্বরের মেলা জমজমাট

পাপিয়া মিত্র এখন শীত মানবজীবনে বন্ধুত্ব পাতায় না বললেই চলে। মাথার আকাশ ব্যস্ত থাকে আগুন নিয়ে ফাগুনকে স্বাগত জানাতে। আর এই ফাগুনের তিথি নক্ষত্র মেনে আসে কতই না মেলা-পাব্বণ। তাকে ঘিরে গ্রামাঞ্চলের মেলাই উৎসব। প্রান্তবাসীর ক’টা দিন আনন্দে মেতে ওঠা। এমনই এক প্রান্তদ্বীপ পাথরপ্রতিমা ব্লক। কলকাতা থেকে যার দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার। এখানেই এখন ঘনঘটা শতাব্দীপ্রাচীন শিব চতুর্দশীর মেলার। পুব দিকে মৃদঙ্গভাঙা আর পশ্চিম দিকে গোবদিয়া নদী। ফি বছরের মতো এ বারেও ভিড় করেছে ডিঙ্গি নৌকা আর আধুনিক যন্ত্রযুক্ত জলযান। জলপথে যাঁরা আসেন তাঁদের তো এটাই ভরসা। আর ডাঙার মানুষের জন্য নানা যানবাহন। বহুদূর থেকে সংসার-সরঞ্জাম, নানা খেলার কেরামতি, মুখচার খাবারের…

আরও পড়ুন

মকর সংক্রান্তি, এক উৎসব, বহু নাম

শম্ভু সেন: সাধুসন্ত, পুণ্যকামী মানুষজন ভিড় জমিয়েছেন গঙ্গাসাগরে। আজ শনিবার মকর সংক্রান্তি। ভোর থেকেই চলছে সাগরসঙ্গমে পুণ্যস্নান। শুধু গঙ্গাসাগর কেন, কলকাতা, হরিদ্বার, প্রয়াগ, বারাণসী-সহ গঙ্গাতীরবর্তী সব শহরেই চলছে এই স্নান। লাখ লাখ মানুষ গঙ্গাস্নান করে পুণ্য অর্জন করছেন। মকর সংক্রান্তিতে নাকি ‘গঙ্গাস্নান’ করতে হয়, ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের এই বিধান। কিন্তু যেখানে গঙ্গা নেই, সেখানে ? সেখানকার মানুষ কি এই পুণ্য থেকে বঞ্চিত থাকবেন ? না, তাঁদেরও উপায় আছে। নিয়ম আছে, নিয়মের ব্যতিক্রমও আছে। ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রেরই বিধান, গঙ্গা নেই তো কী! স্থানীয় যে কোনও নদী, খাল এমনকি জলাশয়কে গঙ্গা ভেবে নিয়ে ডুব দাও। পুণ্যার্জন হয়ে যাবে। তাই ডুব দেরে মন গঙ্গা বলে। মকর সংক্রান্তি…

আরও পড়ুন

বাসন্তীর সেন্ট তেরেজা গির্জা মেতে উঠেছে বড়োদিনের উৎসব

পাপিয়া মিত্র : আজ ২৪ ডিসেম্বর। আর কয়েক ঘণ্টা। তার পরেই রাত ১১টায় ভক্ত সমাগমে পূর্ণ হয়ে উঠবে গির্জা। গাওয়া হবে খ্রিস্টমাস ক্যারল। আসবে সেই পুণ্য ক্ষণ। যিশুর জন্ম মুহূর্ত। রাত ১২টায় প্রধান পুরোহিত শোনাবেন যিশুর বাণী। পাশাপাশি ৮৬তম বর্ষপূর্তিতে মেতে উঠবে বাসন্তী চার্চের দীপ। তাই সেজে উঠেছে বাসন্তীর গির্জা।        বিশ্বায়নের আঁচ লেগেছে হোগল নদীর কোলে। শীতের রোদ গায়ে মেখে খেয়ায় চড়ার মজাটুক হারিয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। এখন গাড়ি আপনাকে পৌঁছে দেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী দ্বীপে। সেই দ্বীপ এখন সেজে উঠছে যিশুর আবির্ভাব আলোয়। প্রস্তুতি তুঙ্গে ‘লিটল ফ্লাওয়ার সেন্ট তেরেজা’ তথা ‘ক্ষুদ্র পুষ্প সাধ্বী তেরেজা’র উপাসনাগৃহে। এখন…

আরও পড়ুন

এ বার বড়িশার চণ্ডীপুজো ২২৪ বছরে, জোর চলছে মেলা

পাপিয়া মিত্র রমরমিয়ে চলছে বড়িশার চণ্ডীমেলা। এখানকার চণ্ডীপুজো এ বার ২২৪ বছরে পড়ল। এ বার মায়ের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের দিলীপ মহারাজ। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই পুজো ১২০০ বঙ্গাব্দে সাবর্ণ চৌধুরী বংশের সন্তান মহেশচন্দ্র রায়চৌধুরী শুরু করেন। অগ্রহায়ণের শুক্লাষ্টমীতে এই পুজো হয়। পারিবারিক এ পুজো তিন দিনে সীমাবদ্ধ ছিল। পারিবারিক পুজোর সুবাদে তখন এত সমারোহ ছিল না। পাঁঠাবলির পাশাপাশি মোষবলিও হত। তবে চণ্ডীপুজো এখন সর্বজনীন। পুজোর আরও একটি দিক আছে। বাড়ির গা-লাগোয়া পুকুর। স্বপ্নাদেশে ওই পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটি ঘড়া। সেই ঘড়া বাড়ির তিনতলায় রাখা আছে আজও। আর ওই পুকুর চণ্ডীপুকুর নামে পরিচিত। সেই ঘড়ায় পরানো হয়…

আরও পড়ুন

দেবসেনাপতি কার্তিকের উৎস সন্ধানে

পাপিয়া মিত্র   কার্তিকঠাকুর হ্যাংলা, একবার আসে মায়ের সঙ্গে, একবার আসে একলা। যতই এ সব কথা লোকসমাজে বলা হোক না কেন, দুগগামায়ের বাকি ছেলেমেয়েকে নিয়ে কিন্তু এত লেখালিখি হয়নি। কার্তিককে নিয়ে পৌরাণিক বা লৌকিক কথন শুরু করলে শেষ করতে বেশ অসুবিধেই হবে। তাই সামান্য ক’টি কথা আজ শুনিয়ে রাখি। কার্তিকেয় বা কার্তিক হিন্দুদের যুদ্ধদেবতা। শিব ও দুর্গার কনিষ্ঠ সন্তান। বৈদিক দেবতা তিনি নন, তিনি পৌরাণিক দেবতা। বাংলায় কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে এই পুজোর আয়োজন করা হয়। কার্তিক হিন্দুদের উর্বরতার দেবতা। প্রধানত এই পুজোর পরেই আসে নবান্ন। প্রাচীন ভারতে এই পুজোর প্রচলন ছিল। উত্তর ভারতেও প্রাচীন দেবতা রূপে পূজিত হয়। অন্য হিন্দু…

আরও পড়ুন

হিমেল মাদকতায় রাস উৎসবে ভক্তের ঢল

পাপিয়া মিত্র ভজনকুটিরে নিকোনো উঠোনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে জ্যোৎস্না। এ জ্যোৎস্না কার্তিকপূর্ণিমার, এ জ্যোৎস্না বড় প্রিয় বৈষ্ণবদের। উঠোনে স্নিগ্ধ আলপনা। ঈশান কোণে টাঙানো চাঁদোয়া, এক দিকে মঞ্জরিভরা তুলসীগাছ। বড়ো মায়াময় এ ছবি। তার থেকেও বড়ো প্রেমময় চাঁদোয়ার নীচে রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ। এ রাতেই বৈষ্ণবদের প্রাণের রাস উৎসব উদ্‌যাপিত হয়। বৃন্দাবনে কার্তিকজ্যোৎস্নায় শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের সঙ্গে নৃত্যগীতে মাততেন। সব গোপিনীরা নিজের সঙ্গি হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকে দেখতে পেতেন। শ্রীকৃষ্ণের এই লীলাই রাসলীলা। রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহের চারদিকে সাজানো অষ্টসখীর মূর্তি। জমকালো পোশাকে সুসজ্জিত। সামনে ফরাস পাতা। তাতে সাজানো মৃদঙ্গ, মন্দিরা, হারমোনিয়াম, করতাল এবং আড়বাঁশি। সুগন্ধী ধূপ, আতর এবং ফুলের গন্ধে ম ম চারদিক। সন্ধ্যারতি শেষ, তিলক…

আরও পড়ুন

ভাইফোঁটা : যম-যমুনার পুরাণকাহিনি থেকে নন্দীবর্ধন-অনসূয়ার ইতিহাস

পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় কথায় বলে বাঙালির জীবনে ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’ – বাঙালির কাছে বড়ই প্রিয় এবং পবিত্র তার উৎসবের আয়োজন, অনুষ্ঠান এবং আনন্দ। প্রতি বছর কার্তিক মাসের অমাবস্যার পরে দ্বিতীয়া তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হয় ভাইফোঁটা, যার পোশাকি নাম ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়া’। এদিন সকালবেলাতেই স্নান করে, সুন্দর সুন্দর পোশাক পরে, সেজেগুজে নানান বয়সের ভাইবোনেরা মেতে ওঠে উৎসবে। যদিও উৎসবের আয়োজন শুরু হয় দু’ একদিন আগে থেকেই। পাড়ায় পাড়ায় মিষ্টির দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। শুধু মিষ্টি কেনাই নয়, চলে নানা উপহারসামগ্রী কেনাও। আর শুধু কি ভাইবোন? অনেক নাতনি ফোঁটা দেয় দাদুর কপালে, দিদিমা-ঠাকুমারা অপেক্ষা করে থাকেন নাতিকে ফোঁটা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়াও…

আরও পড়ুন

পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি… যেন এক আকাশ উৎসব

  পাপিয়া মিত্র এক ঝাঁক রঙিন কাগজের টুকরোয় আকাশ ছেয়ে। এই আকাশভরা দিনের তারারা দিনক্ষণ দেখে উদয় হয়। বছরে একবার কি দু’বার। একটা সময় ছিল যখন সরস্বতীপুজোতেও ঘুড়ি উড়তে দেখা যেত। কিন্তু এখন শুধু বিশ্বকর্মাপুজোতে ভাদ্রের আকাশ রঙিন হয়। গণেশচতুর্থীর পরে আর এক পুরুষ-দেবতার পুজো, বিশ্বকর্মাপুজো।   এক সময় কারখানা নামক কর্মমন্দিরে এই পুজোর বিপুল আয়োজন হত। আমোদ-উল্লাস, বোনাসের মোটা অঙ্ক, বড়োসড়ো মিষ্টির প্যাকেট-সহ বাড়ির কর্তারা মনখুশি নিয়ে সংসার আলো করেছেন। আজ সে সব বেশির ভাগ জায়গাতে দুব্বোঘাস আর জঙ্গল বিস্তৃতি লাভ করেছে। হাজার হাজার মানুষের মনে এখন এই পুজো কেবল স্মৃতি। বিশ্বকর্মার আরাধনা পুরুষদের ঘিরে। শিল্পাঞ্চলের পুজো সে ভাবে…

আরও পড়ুন

ঝুলন থেকে রাখি, রাখি থেকে রবীন্দ্রনাথ

পাপিয়া মিত্র সদর দরজাতে সাদা কাগজে আলতা দিয়ে লেখা ‘ঝুলন দেখে যান’, ‘পয়সা দিয়ে যান’– ইত্যাদি স্লোগান।  দেখে তো ঠাকুরদার চোখ কপালে। এ কী ছেলেখেলা? ঠাকুমা গলা উঁচিয়ে পাল্টা দেন, খেলাই তো! তোমাদের কেষ্ট যদি… ময়দানে নামেন মা। মানে মধ্যস্থতা। ঠাকুরদা-ঠাকুমা দ্বৈরথ থামে। মায়ের সংসারে টান পড়ত। কড়াইয়ের চার ধারে মাটি দিয়ে পুকুর বানানো হত। তাতে ভাসিয়ে দেওয়া হত মাজনে পাওয়া হাঁস। তুলসীতলার মাটিতে ঠাকুরদার পুরনো ধুতির টুকরো মাখিয়ে উল্টো আনাজের ঝুড়িতে ফেলে পাহাড় তৈরি করা হত। দোলের মেলা থেকে নানা পুতুল কেনা হত। সেই সৈন্য,  দইওলা, ধানঝাড়ায় ব্যস্ত কৃষককৃষানি, পুকুরে জল আনতে যাওয়া বউ, ইত্যাদি দিয়ে সাদৃশ্যহীন এক মঞ্চ…

আরও পড়ুন

এই শ্রাবণে বড়কাছারি

পাপিয়া মিত্র অবিশ্রাম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভক্তের দল চলেছে উল্টো পথে। কাঁধে বাঁক, পরনে নতুন জামাকাপড়, মুখে ব্যোম ব্যোম তারক ব্যোম /বোলে ব্যোম তারক ব্যোম।  জয় বাবা বড়কাছারির জয়। উল্টো পথ এই কারণে, এ পথ তারকেশ্বরের নয়। এ পথ বড়কাছারির, দক্ষিণ ২৪পরগনার  ঠাকুরপুকুর থেকে প্রায় এগারো কিলোমিটার দূরে। কথায় বলে ভক্তের টানে ভগবান জাগ্রত হন। লোকমুখে ছড়িয়ে গিয়েছে বাবার থানের কথা। নানা মানুষের নানা সমস্যা। কেউ আসেন সন্তানের কামনায়, কেউ বা চাকরির জন্য, কেউ আবার বাড়ির সমস্যায়। কেউ কেউ জর্জরিত সাংসারিক সমস্যায়। বহু দূর থেকে নিজস্ব গাড়ি, ট্রেকার, ভ্যান রিকশায়, অটোতে  দলে দলে ভক্ত আসেন ভোর থেকে। এখানে পুজো দেওয়ার…

আরও পড়ুন